
বরাকে একদিনে আক্রান্ত ৯, শিলচর মেডিকেল থেকে ছাড়া পেলেন ২৯
বরাকে একদিনে আক্রান্ত ৯, শিলচর মেডিকেল থেকে ছাড়া পেলেন ২৯
রাজ্যে করোনা সংক্রমণ-সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও সুস্থ হয়ে ওঠার সংখ্যাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। মঙ্গলবার শিলচরের সাংসদ রাজদীপ রায় রাত আটটার সময় এক ফেসবুক পোস্টে জানিয়েছেন, বরাক উপত্যকায় নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৯ জন। এরমধ্যে করিমগঞ্জ জেলার পাঁচজন, হাইলাকান্দির তিন এবং কাছাড় জেলার একজন। নতুন করে আক্রান্ত সবাই বাইরে থেকে এসেছেন।
এদিকে, রাজ্যের স্বাস্থ্য মন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা রাত এগারোটা পঞ্চান্ন মিনিটে এক টুইটে জানিয়েছেন যে সমগ্র রাজ্যে কোভিড আক্রান্তের সংখ্যা ৩০৫০। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে উঠেছেন ১০৯৭, সক্রিয় রোগী রয়েছেন ১৯৪৫ এবং মারা গেছেন ৫ জন।
কাছাড় জেলায় আক্রান্ত ব্যক্তির নাম জামিল আহমেদ, বয়স ২১ বছর। হাইলাকান্দিতে ডায়েট কোয়ারেন্টাইন সেন্টার থাকা রিঙ্কু দাস (২৫) ও দিলীপ দাস (৩৭) এবং আদর্শ বিদ্যালয় ছাত্রাবাসে থাকা কুতুবুল আলম বড়ভূঁইয়া (২০)র রিপোর্ট পজিটিভ আসায় তাদেরকে এসকে রায় সিভিল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
শিলচর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে যে, মঙ্গলবার একসঙ্গে ২৯ জন করোনা আক্রান্ত ব্যক্তিকে সুস্থ ঘোষণা করে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। এটি একদিনে সর্বোচ্চ। এর ফলে হাসপাতাল থেকে সুস্থ রোগীকে মুক্তি দেওয়ার সংখ্যাও একশোর মাত্রা ছাড়িয়েছে। হাসপাতালে করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসা পরিষেবা শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত মোট ১২০জন আক্রান্ত ব্যক্তি সুস্থ হয়ে ফিরলেন, এটাও রেকর্ড।
শিলচর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অধ্যক্ষ ডাঃ বাবুল বেজবরুয়া জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত এখানে ২৫৪ জন আক্রান্ত ব্যক্তি চিকিৎসার জন্য ভর্তি হয়েছেন। শুধুমাত্র একজনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১২০ জন সুস্থ হয়ে ছাড়া পেয়েছেন। এখন ১৩৩ জন আক্রান্ত ব্যক্তি চিকিৎসাধীন রয়েছেন। মঙ্গলবার যারা ছাড়া পেয়েছেন এদের মধ্যে কাছাড় জেলার ১৫ জন করিমগঞ্জ জেলার ১২ জন এবং হাইলাকান্দি জেলার ২ জন রয়েছেন।
এদিকে হাসপাতালটিতে সোয়াব সেম্পল পরীক্ষার সংখ্যা ১৬ হাজার ছাড়িয়েছে। এখন দিনে ৫০০ থেকে ১০০০ স্যাম্পল পরীক্ষা হচ্ছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সুস্থ হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে সবথেকে কঠিন পরিস্থিতিতে ছিলেন মুফতি জামাল উদ্দিন, অর্চনা নন্দী এবং খলিলুর রহমান। রাজ্যের প্রথম করোনা আক্রান্ত মুফতি জামাল উদ্দিন ক্যান্সার রোগে ভুগছিলেন। তার চিকিৎসা নিয়ে অনেক সাবধান থাকতে হয়েছে হাসপাতালকে। এরপর অর্চনা নন্দী এবং খলিলুর রহমান যখন অসুস্থ হলেন তখন ও অনেক বিপদ গেছে। দুজনেই অন্যান্য রোগে এতটাই দুর্বল ছিলেন যে করোনার প্রভাব তাদের উপর অন্যদের থেকে বেশি পড়ার সম্ভাবনা ছিল। তবে তারা ভাইরাসকে হারাতে সমর্থ হয়েছেন। যদিও অন্যান্য চিকিৎসার জন্য তাদের শিলচর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আপাতত রাখা হয়েছে। খলিলুর রহমান বুধবার মুক্তি পাবেন বলে জানা গেছে।
কাছাড় জেলার সরকারি কোয়ারেন্টাইন থেকে একদিনে ৫৫০ জন ব্যক্তিকে মুক্তি দিয়ে নতুন রেকর্ড গড়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জেলায় পাঁচ হাজারের বেশি মানুষ সরকারী কোয়ারেন্টাইন এখন পর্যন্ত গেছেন। এর প্রায় অর্ধেক মানুষ বাড়ি ফিরেছেন। সোমবার একদিনে ৫৫০ জন ব্যক্তিকে বাড়ি পাঠাতে পাড়া বিরাট সাফল্য। একদিকে যাত্রী ফেরার সংখ্যা বাড়ছে এবং অন্যদিকে সুস্থের সংখ্যাও বাড়ছে। এক সময় আমরা হয়তো দেখতে পাবো যত লোক কোয়ারেন্টাইনে আসছেন তার থেকে বেশি সংখ্যায় লোককে বাড়ি পাঠানো হচ্ছে। এই পরিস্থিতি আর বেশি দিন দূরে নয়।
গান্ধী মেলায় যোগ দিতে আসা কিছু পরিযায়ী শিলচর শহরের ইন্ডিয়া ক্লাব সংলগ্ন একটি মাঠে অত্যন্ত কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। তবে আশ্চর্যের ব্যাপার হচ্ছে এরা কেউ ফিরে যেতে চাইছেন না। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদেরকে বুঝিয়ে বলা হচ্ছে। আগামীতে হয়তো তাদের রাজ্য সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে।
Comments are closed.