Also read in

গ্রীন হিলসে পজিটিভ, মেডিকেলে নেগেটিভ, কারচুপির অভিযোগ; "রোগীর সামনেই সরকারি কিটে পরিক্ষা হয়," বললেন হাসপাতালের কর্ণধার

বুধবার সকালে একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়, যেখানে বলা হচ্ছে গ্রীন হিলস হাসপাতালে এক ব্যক্তির কোভিড রিপোর্ট পজিটিভ এলেও তারই রিপোর্ট শিলচর মেডিকেল কলেজের পরীক্ষায় নেগেটিভ হয়েছে। ব্যক্তিটি হাসপাতালের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন তারা রিপোর্ট নিয়ে নয়-ছয় করেছেন এবং পিছনে ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে।

অভিযোগকারী যুবকের বয়ান, ডাক্তার অমিত কালোয়ারের পরামর্শে তারা মঙ্গলবার রাতে প্রথমে গ্রীন হিলস হাসপাতালে যান। সেখানে কোভিড পরীক্ষাকেন্দ্রে রেপিড এন্টিজেন টেস্টে রোগীর রিপোর্ট পজিটিভ আসে। বেসরকারী হাসপাতালটিতে চিকিৎসার খরচ তুলনামূলক বেশি হচ্ছে ভেবে তারা শিলচর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান। সেখানেও রেপিড এন্টিজেন টেস্ট হয় এবং রিপোর্ট নেগেটিভ আসে। এতেই তাদের মনে হয়, করোনা চিকিৎসার নামে ব্যবসা চালাচ্ছে গ্রীন হিলস হাসপাতাল। তারা দুই রিপোর্টের কপি সহ ভিডিও তুলে সেটি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন।

এব্যাপারে গ্রীন হিলস হাসপাতালের কর্ণধার রুদ্র নারায়ণ গুপ্তের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, হাসপাতালে কোভিড পরীক্ষাকেন্দ্র পুরোপুরি সরকারি খরচে এবং স্বাস্থ্য বিভাগের তত্ত্বাবধানে চলে। টেস্টিং কিট স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে পাঠানো হয় এবং এর জন্য রোগীদের কাছ থেকে কোনও ফি নেওয়া হয় না। এছাড়া রোগীর সামনেই পরীক্ষা হয় এবং টেস্টিং কিটেই পজেটিভ বা নেগেটিভ, দুটো রেজাল্টই স্পষ্ট দেখা যায়। ফলে পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেনা। আপনারা রাজ্যের যেকোনও বরিষ্ঠ চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করলে জানতে পারবেন, রেপিড এন্টিজেন টেস্টের রেজাল্ট সবসময় গ্রহণযোগ্য নাও হতে পারে। এই জন্যই আমরা আরটিপিসিআর পরীক্ষার উপর বেশি ভরসা করি। রেপিড এন্টিজেন টেস্টে কেউ পজিটিভ হওয়ার পর তাকে চিকিৎসাধীন রেখে স্যাম্পল আরটিপিসিআর পরীক্ষার জন্য পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

এবার যদি চিকিৎসার খরচ নিয়ে বলা হয়, রোগী বা তার পরিবারের পক্ষ থেকে আমাদের কাছে জিজ্ঞেস করলে আমরা পুরো প্রক্রিয়ায় কতটুকু খরচ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে সেটা জানিয়ে দিই। সরকারি হাসপাতালে ঔষধের দাম এখন পর্যন্ত সরকার বহন করে, এছাড়া সরকারি ডাক্তারের খরচ হাসপাতালকে দিতে হয় না। আমরা ডাক্তারের যেমন খরচ বহন করী সেভাবেই দামি ঔষধগুলোও বিনামূল্যে পাইনা। ফলে সবগুলো মিলিয়ে যা খরচ হতে পারে সেটা রোগীকে আগে থেকে বলে দেওয়া হয়। তারা যদি প্রথম থেকে প্রস্তুত না হন, পরে হঠাৎ করে বড় অংকের বিল এলে সেটা আরেক অসুবিধা সৃষ্টি করতে পারে।

আগামীতে সরকারি হাসপাতালগুলো ওষুধ বিনামূল্যে দেওয়া হবে না। তখন রোগীরা বুঝতে পারবেন চিকিৎসায় কতটুকু খরচ হচ্ছে। ক্রিটিক্যাল রোগীকে অন্তত চারটি রেমডিসিভির ডোজ দেওয়া হয়, প্রত্যেক ডোজের মূল্য ন্যূনতম পাঁচ হাজার টাকা। এধরনের আরও অনেক দামী ওষুধ রোগীকে দেওয়া হয়। তবে সব রোগীর সব ওষুধ প্রয়োজন হয়না। আরটিপিসিআর পরীক্ষায় রোগীর অবস্থা বোঝা যায়, এর পরই ঠিক করা হয় কিভাবে চিকিৎসা দেওয়া হবে।

চিকিৎসক অমিত কালোয়ার জানান, তিনি রোগীকে বলেছিলেন শিলচর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল অথবা গ্রিন হিলস হাসপাতালে পরীক্ষা করিয়ে নিতে, কারণ এই মুহূর্তে শুধুমাত্র এই দুই জায়গায় কোভিড চিকিৎসা হয়। তারা গ্রীন হিলসে পরীক্ষা করিয়ে পজিটিভ হয়েছেন এরপর শিলচর মেডিকেল কলেজে গেছেন, সেখানে পরীক্ষা হয়েছে এবং রেজাল্ট আলাদা হয়েছে। তবে দুই ক্ষেত্রেই রেপিড এন্টিজেন টেস্ট হয়েছে, আরটিপিসিআর পরীক্ষা হলেই আসল সত্য জানা যাবে।

Comments are closed.

error: Content is protected !!