
মেডিক্যাল থেকে পালিয়ে বাড়ি চলে এলেন করোনা আক্রান্ত, পরিবারের অনুরোধে ফিরে গেলেন আবার
৪৫-বছরের করোনা আক্রান্ত রোগী শিলচর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওয়ার্ড থেকে পালিয়ে বাড়ি চলে আসেন। ঘটনাটি ঘটে বুধবার সকালে। এই খবরে তারাপুর মজুমদার বাজার সংলগ্ন কাশিপুর এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ দেখা দেয়। শেষমেষ পুলিশ এবং স্বাস্থ্য বিভাগের দল এসে তাকে বাড়ি থেকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়। তবে তার শরীর অত্যন্ত দুর্বল এবং অক্সিজেনের মাত্রা ৮০ শতাংশের নিচে। হাসপাতালে থাকাকালীন তার কোনও অসুবিধা হয়েছিল কিনা সেটা পরিষ্কার করতে পারছেন না। আশেপাশে পুলিশ রয়েছে এবং রয়েছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা, কথা বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়ছিলেন করোনা আক্রান্ত লোকটি। তবে তিনি পরিবারের অনুরোধ রেখেছেন এবং তাদের কথায় চিকিৎসার জন্য আবার হাসপাতালে ফিরে গেছেন।
শিলচর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সহকারি অধ্যক্ষ ডাঃ ভাস্কর গুপ্ত জানিয়েছেন, বুধবার সকালে তারা হঠাৎ করে খবর পান শিলচর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের কোভিড ওয়ার্ডের একজন রোগী অ্যালুমিনিয়ামের ব্যারিকেড ভেঙে পালিয়ে গেছেন। তারা রেকর্ডে থাকা ফোন নম্বরে যোগাযোগ করেন এবং রোগীর পরিবারের সদস্যরা জানান, তিনি বাড়িতে এসে গেছেন। হাসপাতালের পক্ষ থেকে পুলিশের কাছে সাহায্য চাওয়া হয় পাশাপাশি প্রয়োজনে রোগীকে ফিরিয়ে আনার জন্য স্বাস্থ্যকর্মী পাঠানোর আশ্বাস দেওয়া হয়। পুলিশ এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের সহায়তায় শেষমেষ তাকে আবার হাসপাতালে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে রোগীর শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত দুর্বল বলে জানা গেছে। তার ফুসফুসের সমস্যা রয়েছে এবং অক্সিজেনের মাত্রা দ্রুত নামছে। পরিস্থিতি বিবেচনা করে তাকে আইসিইউ ওয়ার্ডে পাঠানো হতে পারে।
রোগীর বাড়ি গ্রামাঞ্চলে, সেখানে বিশেষ কোনও স্বাস্থ্যপরিসেবা নেই। বাড়িতে অক্সিমিটার রয়েছে কিন্তু তাকে অক্সিজেন দিয়ে সেখানে চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়ার মতো পরিস্থিতি নেই। এই কথা তিনি জানতেন, তবু কেন শিলচর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় তিনি পালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন, এটা রহস্যময় ব্যাপার। তবে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন তিনি প্রথম থেকেই ভয় পাচ্ছিলেন এবং কিছু কিছু নার্স এবং স্বাস্থ্যকর্মীরা তার সঙ্গে সুন্দর ব্যবহার করেননি বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে পরিবারের সদস্যরা কোনভাবেই তার হাসপাতাল ছেড়ে বাড়ি চলে আসার সিদ্ধান্ত সমর্থন করেননি।
পরিবারের সদস্যরা বলেন, “দুদিন আগে তার শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল এবং আমরা শিলচর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখানে প্রথমে তার রেপিড এন্টিজেন টেস্টের রেজাল্ট নেগেটিভ পরবর্তীতে আরটিপিসিআর পরীক্ষায় পজিটিভ আসে। ফলে গতকাল তাকে কোভিড ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে তাঁকে মোবাইল নিতে দেওয়া হয়নি, ফলে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়। আজ সকালে হঠাৎ করেই তিনি অজানা নম্বর থেকে ফোন করেন এবং বলেন তিনি কোভিড ওয়ার্ড থেকে ছাড়া পেয়েছেন এবং বাড়ি আসবেন। আমরা প্রথমে আশ্চর্য হই এবং খবর নিয়ে জানতে পারি তাকে হাসপাতাল থেকে ছাড়া হয়নি। তবে কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি বাড়ি পৌঁছে যান এবং তাকে দেখে মনে হয় শরীর একেবারে সুস্থ নয়। তাকে আলাদা রেখে আমরা শিলচর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগ করি, তারা জানান সময়মতো রোগীকে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। আমরা কোনওভাবেই তার এই কাজের সমর্থন করছি না, তবে হাসপাতালে ফিরে যাওয়ার পর তার সঙ্গে যাতে কোনও ধরনের দুর্ব্যবহার করা না হয়, এটুকুই আমরা চাই।”
তারাপুর থানার তরফে আনন্দ মেধী সহ পুলিশের একটি দল বুধবার বিকেলে এলাকায় উপস্থিত হন এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। তারা থাকতে থাকতেই স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মীরা সেখানে উপস্থিত হন এবং পিপিই কিট লাগিয়ে রোগীকে এম্বুলেন্সে তোলেন। যেহেতু তার অক্সিজেনের মাত্রা কম ছিল, অ্যাম্বুলেন্সের ভেতরেই তাকে অক্সিজেন দেওয়া হয় এবং ধীরে ধীরে শিলচর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের উদ্দেশ্যে রওনা দেন।
এটি শিলচর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে কোভিড ওয়ার্ড থেকে রোগী বেরিয়ে যাওয়ার দ্বিতীয় ঘটনা। অতীতে আরেক রোগী এভাবেই সুযোগ বুঝে বেরিয়ে গেছেন এবং তিনি করিমগঞ্জের ভাঙ্গা এলাকায় নিজের শ্বশুরবাড়িতে চলে গেছিলেন। সেখান থেকে পুলিশ এবং স্বাস্থ্যকর্মীরা তাকে উদ্ধার করে নিয়ে আসেন এবং পরবর্তীতে তিনি সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরেন।
Comments are closed.