Also read in

মোদি-শাহের সঙ্গে অপরাধীদের তুলনা করে ফেসবুক পোস্ট, আটক কংগ্রেস কর্মী

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে অপরাধীদের সঙ্গে তুলনা করে কিছু ব্যঙ্গাত্মক ফেসবুক পোস্ট শেয়ার করেছিলেন জেলা কংগ্রেসের আইটি সেলের সঙ্গে যুক্ত আবির চৌধুরি। এর বিরুদ্ধে মামলা করেন বিজেপির যুব মোর্চার সভাপতি অমিত চক্রবর্তী। মামলার উপর ভিত্তি করে বৃহস্পতিবার বিকেলে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চৌধুরীকে আটক করে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর তাকে ছেড়ে দিলেও তার মোবাইল ফোন আটক করা হয়েছে এবং আগামীতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিনি থানায় হাজির হবেন বলে লিখিত মুচলেকা দিয়েছেন। তবে জেলা কংগ্রেসের তরফে একে ক্ষমতার অপব্যবহার হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছে।

১৭ মে ভারতীয় জনতা যুব মোর্চার কাছাড় জেলা সভাপতি অমিত চক্রবর্তী শিলচর সদর থানায় একটি মামলা করেন। তিনি বলেন, “বাকস্বাধীনতার একটা সীমা থাকতে হয়, একজন লোক সোশ্যাল মিডিয়ায় যদি দেশের প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে করোনা ভাইরাসের ট্রিপল মিউটেন্ট হিসেবে আখ্যা দেয়, অথবা অপরাধীদের সঙ্গে তুলনা করে, সেটা মেনে নেওয়া যায়না। রাজনৈতিকভাবে তারা অন্য চিন্তাধারায় বিশ্বাসী হতেই পারেন এবং সরকারের বিভিন্ন কাজের সমালোচনা করার অধিকার রয়েছে। তবে এই অধিকারের নামে সীমা লঙ্ঘন করলে আমরা এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করব। পুলিশ বিভাগ আমাদের আবেদনের ওপর দুই সপ্তাহ পর সাড়া দিয়েছেন, তবে এতেও আমরা খুশি। সমাজে কিছু উদাহরণ তুলে ধরতে হবে, শুধুমাত্র বাক-স্বাধীনতার নাম করে দেশের প্রধানমন্ত্রীর মতো মর্যাদাসম্পন্ন একটি চেয়ারের অবমাননা যাতে কেউ না করে।”

সদর থানার ওসি দিতুমনি গোস্বামী জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার বিকেলে পঞ্চায়েত রোড এলাকা থেকে আবীর চৌধুরীকে তুলে আনা হয়েছিল এবং কয়েক ঘণ্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদের পর তাকে যেতে দেওয়া হয়েছে। তবে তিনি লিখিতভাবে জানিয়েছেন আগামীতে যখন জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে ডাকা হবে, তিনি হাজির হবেন। এছাড়া তদন্তের খাতিরে তার মোবাইল ফোন রেখে দেওয়া হয়েছে, তদন্ত শেষ হলে সেটা ফিরিয়ে দেওয়া হবে।

জেলা কংগ্রেসের মুখপাত্র জ্যোতিরিন্দ্র দে এই ঘটনাকে ক্ষমতার অপব্যবহার বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন, “বিজেপির অনেকেই রাহুল গান্ধী এবং সোনিয়া গান্ধীকে নিয়ে নানান কুরুচিকর মন্তব্য করেন এবং ব্যঙ্গাত্মক কথাবার্তা সোশ্যাল মিডিয়ায় তুলে ধরেন। আবির চৌধুরি অন্যান্য সাইটে পাবলিশ হওয়া মিম শুধুমাত্র তার ফেসবুক ওয়ালে শেয়ার করেছিলেন। তিনি নিজে অতিরিক্ত কোনও কিছু লিখেন নি। তবু তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এবং ক্ষমতায় থাকা বিজেপি পুলিশকে বাধ্য করেছে তাকে আটক করতে। এছাড়া তার বিরুদ্ধে যেসব সেকশনে মামলা গ্রহণ করা হয়েছে, সেগুলো একেবারেই ভিত্তিহীন। জিজ্ঞাসাবাদের পর পুলিশ আবীর চৌধুরীকে বাড়ি যেতে দিয়েছে, এতেই প্রমাণ হচ্ছে, তার বিরুদ্ধে মামলা টিকবে না। ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিজেপি ভুল উদাহরণ তুলে ধরেছে, যার ফল আগামীতে তাদের পেতে হবে।”

Comments are closed.

error: Content is protected !!