
কারফিউ চলাকালীন নাকা চেকিংয়ে পুলিশকে মেরে হাত ফাটিয়ে দিলেন সমাজকর্মী
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী দুপুর দুটোর পর সাধারণ মানুষ রাস্তায় বেরোবেন না, মানুষের মধ্যে সচেতনতা গড়ে তুলতে এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই নিয়ম চালু করতে দুপুর দুটো থেকে রাতভর পুলিশের আধিকারিকরা পরিশ্রম করছেন। তবে কিছু লোক নিজেদেরকে সমাজসেবী সাজিয়ে দম্ভ দেখাতে গিয়ে পুলিশের উপর হামলাও করছেন। এমনই এক ঘটনা ঘটেছে রবিবার বিকেলে, সামাজিক সংগঠন নিউ লাইফ ফাউন্ডেশনের কর্ণধার কমরুল ইসলাম লস্কর রাঙ্গিরখাড়ি থানার কনস্টেবল নিত্যানন্দ দাসকে প্রথমে অশ্রাব্য ভাষায় গালাগাল দেন এবং পরে তাকে মারধর করে রক্তাক্ত অবস্থায় নিয়ে যান। তবে আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে ঘটনায় এখনও পুলিশ মামলা গ্রহণ করেনি। রাঙ্গিরখাড়ি থানার আধিকারিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা কোনও উত্তর দেননি, এদিকে পুলিশ সুপার থেকে শুরু করে বিভাগের উচ্চপদস্থ আধিকারিক রা দিনভর আসাম-মিজোরাম সীমান্তে রয়েছেন, ফলে এই ঘটনার খবর তারাও পাননি।
এই সুযোগে একজন সাধারন মানুষ পুলিশের আধিকারিককে কর্তব্যরত অবস্থায় ইউনিফর্মে মারধর করে দিবি রাঙ্গিরখাড়ি থানায় অনেকক্ষণ সময় কাটিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। ঘটনার পরে পুলিশ কনস্টেবল নিত্যানন্দ দাসের সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, তখন প্রায় বিকেল চারটে, কারফিউ শুরু হয়ে গেছে এবং রাঙ্গিরখাড়ি থানার সামনে নাকা চেকিং বসানো হয়েছে। তখন অভিযুক্ত লোকটি গাড়ি নিয়ে আসে এবং অত্যন্ত উচ্চস্বরে পুলিশদের সরে যেতে বলে। তার গাড়িতে সমাজসেবী হিসেবে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি পারমিশন লাগানো রয়েছে। তাই পুলিশের আধিকারিকরা তাকে খুব একটা আটকাননি, কিন্তু লোকটি কর্তব্যরত আধিকারিকদের অত্যন্ত নোংরা ভাষায় গালিগালাজ করতে শুরু করে। পাশাপাশি বলতে থাকে সে অত্যন্ত ক্ষমতাশালী ব্যক্তি এবং অনেক কিছু করতে পারে। নিত্যানন্দ দাস তাকে এই ধরনের ভাষা ব্যবহার করতে মানা করেন, এতে লোকটি গাড়ি স্টার্ট দিয়ে নিত্যানন্দ দাসকে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি আহত হন এবং হাতের একটা অংশ ফেটে গিয়ে রক্ত বেরুতে শুরু করে। ততক্ষণে থানার অন্যান্য পুলিশ এসে ঘটনা সামাল দিতে ঝাঁপিয়ে পড়েন।
থানার একজন কনস্টেবল নিজের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে এভাবে নিগৃহীত হওয়ার পরও লোকটির বিরুদ্ধে মামলা গ্রহণ করেনি পুলিশ বিভাগ। এমনকি নিগৃহীত পুলিশ আধিকারিককে বোঝানোর চেষ্টা করা হয়, তিনি যেন এসব ভুলে গিয়ে ক্ষমা চেয়ে নেন। কমরুল ইসলাম লস্কর নামের লোকটি থানায় থাকাকালীন তার অনেক খাতিরদারি করা হয় এবং সসম্মানে ভালো চেয়ারে বসিয়ে রাখা হয় বলে খবর পাওয়া গেছে। একজন ব্যক্তি সমাজসেবীর পরিচয়ে কর্তব্যরত পুলিশ আধিকারিককে নিগৃহীত করার অধিকার কিভাবে পেলেন, এই প্রশ্ন স্বয়ং পুলিশের আধিকারিকরা পর্যন্ত করতে সাহস পাচ্ছেন না। অথচ এই পুলিশরাই দুঃস্থ-গরিব মানুষকে রাস্তায় ফেলে লাঠি দিয়ে পেটাতে ভোলেন না, সবজিওয়ালা-মাছওয়ালাদের সঙ্গে নিত্যদিনের নির্যাতন চালান একাংশ পুলিশের কর্মীরা। কিছুদিন আগে পুলিশের ভয়ে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছিলেন রংপুর এলাকার এক বাসিন্দা।
Comments are closed.