
সাত মাসে ৬৫ বার বেড়েছে পেট্রোল-ডিজেলের দাম, নির্বিকার সরকার, প্রতিবাদে পথে নামল কংগ্রেস
“ভারতবর্ষের অন্তত ২০০ টি শহরে এখন পেট্রোলের দাম ১০০ টাকা বা তার থেকে বেশি। জানুয়ারি থেকে জুলাই মাস পর্যন্ত ৬৫ বার পেট্রোল এবং ডিজেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। স্বাধীন ভারতে এই উদাহরণ বিরল। পেট্রোল-ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে প্রত্যেক প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে, অথচ কেন্দ্র-সরকার এব্যাপারে নির্বিকার। এর কারণ হচ্ছে মোটা অঙ্কের মুনাফা, গত সাত বছরে নরেন্দ্র মোদি সরকার ২৫ লক্ষ কোটি টাকা শুধুমাত্র পেট্রোল এবং ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি করে রোজগার করেছে,” এমনটাই দাবি জাতীয় মহিলা কংগ্রেসের সভানেত্রী তথা প্রাক্তন সাংসদ সুস্মিতা দেবের। পেট্রোল, ডিজেল রন্ধন-গ্যাস সিলিন্ডার সহ প্রায় প্রত্যেক প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার শিলচরে কংগ্রেসের ধর্নায় অংশ নিতে গিয়ে তিনি এমনটাই মন্তব্য করেন।
পেট্রোল, ডিজেল, রন্ধন-গ্যাস সহ প্রত্যেক প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে শিলচর জেলা কংগ্রেস কমিটি বৃহস্পতিবার এক জোরালো প্রতিবাদ কর্মসূচি আয়োজন করে। শহরের দেবদূত পয়েন্টের পেট্রোল পাম্পের সামনে থেকে প্রতিবাদ কর্মসূচি শুরু হয়, কিন্তু তারা সম্পূর্ণভাবে কোভিড প্রটোকল মেনে কাজটি করার চেষ্টা করেন। গণসাক্ষর অভিযান ইত্যাদির মাধ্যমে জনগণের মধ্যে নিজেদের কথাগুলো পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করেন কংগ্রেস কর্মীরা। “পেট্রোল ডিজেল কেন একশ পার?….নরেন্দ্র মোদির জবাব চাই জবাব দাও””কেন্দ্র সরকার মুর্দাবাদ” ইত্যাদি শ্লোগানের মাধ্যমে তারা জোরালো প্রতিবাদ গড়ে তোলেন।
সুস্মিতা দেব ছাড়াও প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছিলেন জেলা কংগ্রেস সভাপতি প্রদীপ কুমার দে, সাধারণ সম্পাদক পার্থ চক্রবর্তী, বিধানসভা নির্বাচনের শিলচর থেকে কংগ্রেসের প্রার্থী তমাল কান্তি বণিক, সুজন দত্ত, সজল বনিক, রাজেশ দেব, রহুল আলম লস্কর, ইকবাল হুসেন লস্কর সহ অন্যান্যরা।
সুস্মিতা দেব বলেন, “সাধারণ মানুষের জীবন যাপন ক্রমশ কঠিন হয়ে পড়ছে, অথচ কেন্দ্র সরকার এব্যাপারে নির্বিকার। অতীতে তারা মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধে বরাবর সোচ্চার ছিলেন, আর আজ তাদের শাসনেই স্বাধীনতার পর প্রথম বার এত দ্রুত মূল্যবৃদ্ধি হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, রন্ধন গ্যাসের সিলিন্ডারের সাবসিটি পরিত্যাগ করতে এবং হাজার হাজার মানুষ সেটা করেছেন। তবু এখন রন্ধন গ্যাস সিলিন্ডারের মূল্য এক হাজারের উপরে। সাত মাসে ৬৫ বার পেট্রোল-ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি ভারতবর্ষের ইতিহাসে অতীতে কখনও হয়নি। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে খাদ্যবস্তু থেকে শুরু করে প্রত্যেক প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের উপর। কেন্দ্র সরকার এব্যাপারে নির্বিকার কারণ, মূল্যবৃদ্ধি থেকে বড় অঙ্কের মুনাফা লুটছেন প্রধানমন্ত্রী এবং তার সহযোগীরা। গত সাত বছরে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন কেন্দ্র সরকার শুধুমাত্র পেট্রোল এবং ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি ঘটিয়ে ২৫ লক্ষ কোটি টাকা মুনাফা রোজগার করেছে। অন্যান্য বিষয়ের হিসেব মিলাতে এই সংখ্যা আরো বৃদ্ধি পাবে। মুখে নিজেদেরকের জনদরদি আখ্যা দিয়ে আদতে জনগণের জীবন দুর্বিষহ করে তুলছেন নরেন্দ্র মোদী এবং তার সহযোগীরা।”
যেহেতু করোনা পরিস্থিতি এবং সরকারের তরফে বিভিন্ন নিয়ম বেঁধে দেওয়া হয়েছে, ফলে এদিন সীমিত পর্যায়ে প্রতিবাদ প্রদর্শন করা হয়। এই বিষয়ে সুস্মিতা দেব বলেন, “আমরা স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং পদ্ধতি মেনে সীমিত পর্যায়ে প্রতিবাদ করেছি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে এলে মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধে জোরালো প্রতিবাদ গড়ে তোলা হবে এবং এতে জনগণ আমাদের পাশে থাকবেন।”
Comments are closed.