
জনসংযোগ-প্রধান ইন্দ্রানী গোস্বামীর অপসারণের দাবি আকসার, তদন্তের নির্দেশ জেলাশাসকের
কাছাড় জেলার জনসংযোগ বিভাগের প্রধান ইন্দ্রানী গোস্বামী মহন্ত একজন বাঙালি বিদ্বেষী তথা স্বৈরাচারী। সম্প্রতি জনসংযোগ বিভাগের গ্রেড-থ্রি এবং গ্রেড-ফোর স্তরে বিভিন্ন পদে নিযুক্তি হয়েছে। তবে সেসবে বরাক উপত্যকার কাউকে স্থান দেওয়া হয়নি। ইন্দ্রানী গোস্বামী মহন্ত বরাক উপত্যকাকে বাদ দিয়ে ব্রহ্মপুত্র উপত্যকা থেকে তার পছন্দের লোককে এনে প্রত্যেকটি পদ পূর্ণ করছেন। পাশাপাশি তিনি তার কার্যালয়ে কর্মরত এঅঞ্চলের ব্যক্তিদের সঙ্গে অত্যন্ত নিম্ন স্তরের ব্যবহার করেন। জেলাশাসককে না জানিয়ে যখন তখন গুয়াহাটি গিয়ে বসে থাকেন। এমনকি লোকসভা নির্বাচনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তিনি কোনও দায়িত্ব পালন করেন নি, এমনটাই অভিযোগ সারা কাছাড় হাইলাকান্দি করিমগঞ্জ ছাত্র সংস্থা (আকসা)র সদস্যদের। তারা অতিসত্বর ইন্দ্রানী গোস্বামীর অপসারণের দাবি জানিয়ে বুধবার জেলাশাসকের কাছে একটি স্মারক পত্র প্রদান করেন।
স্মারক পত্র প্রদানের পর আকসার সদস্যরা সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তাদের অভিযোগের কথা স্পষ্ট ভাবে জানান। আকসার মুখ্য উপদেষ্টা রুপম নন্দী পুরকায়স্থ বলেন, সম্প্রতি জেলা জনসংযোগ কার্যালয়ে গ্রেড-থ্রি এবং গ্রেড ফোর পদে বেশ কয়েকটি নিযুক্তি হয়েছে। তবে আমরা খবর নিয়ে জানতে পারি এতে বরাক উপত্যকার কাউকে নিযুক্তি দেওয়া হয়নি। রাজ্য সরকারের নিয়ম অনুযায়ী গ্রেড থ্রি এবং ফোর পদে জেলার জনগণ নিযুক্তি পাওয়ার প্রথম অধিকারী। এমন তো নয় যে কাছাড় জেলায় এই পদগুলো পাওয়ার মত যোগ্য ব্যক্তি নেই। তবু ইন্দ্রানী গোস্বামী নিজের পছন্দের লোককে বাইরে থেকে এনে কাছাড়ে নিযুক্তি দিয়ে আমাদের ছেলেমেয়েদের অবজ্ঞা করেছেন। তিনি একজন অত্যন্ত বাঙালি বিদ্বেষী ব্যক্তি। নাগরিকত্ব ইস্যুতে সরাসরি বাঙালিদের বিরুদ্ধে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন গায়ক জুবিন গার্গ। সেই জুবিন গার্গকে তাঁর কার্যালয়ে নিয়ে এসে সংবর্ধনা দিয়ে ইন্দ্রানী আমাদের কী বার্তা দিলেন তা স্পষ্ট। আমরা এমনটাও শুনেছি, তার কার্যালয়ে যারা বাঙালি কর্মচারি রয়েছেন তাদের সঙ্গে তিনি অত্যন্ত বাজে ব্যবহার করেন।
জনসংযোগ কার্যালয়ে ম্যানেজার কাম প্রডিউসার নামের একটি পদ রয়েছে যার দায়িত্ব হচ্ছে এলাকার সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে উৎসাহ দেওয়া এবং তাদের জন্য প্ল্যান বানিয়ে সরকারের কাছে পৌঁছে দেওয়া। রাজ্য সরকারের উদাসীনতায় এই পদটি ২০০০ সাল থেকে খালি হয়ে রয়েছে। তবে সম্প্রতি ঘনশ্যাম বৈষ্ণব নামের এক আধিকারিককে এই পদে নিযুক্ত দেওয়া হয়। তার নিযুক্তি দেওয়া হল ৪ মার্চ এবং তিনি ২৭ মার্চ চাকরি থেকে অব্যাহতি পেলেন। ইচ্ছাকৃতভাবে কুড়ি দিনের জন্য একজন লোককে এই পদে বসিয়ে যেন ব্যঙ্গ করলেন ইন্দ্রানী।
তার মধ্যে একটা স্বৈরাচারী মনোভাব রয়েছে। তিনি শিলচর কার্যালয়ে কম থাকেন এবং গুয়াহাটিতে বেশি সময় কাটান। আমরা জেলা শাসকের কাছে এব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তিনি পুরোটা জানেন না। তার মানে, জেলাশাসককে না জানিয়ে একজন কর্মচারি দিনের পর দিন গুয়াহাটি বসে থাকেন? তিনি প্রায়ই নিজের অসুস্থতার দোহাই দিয়ে থাকেন, অথচ এনআইটিতে জুবিন গার্গের প্রোগ্রাম রাত তিনটে পর্যন্ত সরকারি গাড়ি নিয়ে তিনি উপভোগ করলেন, তখন তার শারীরিক অসুবিধা হয়নি।
আমরা এই প্রত্যেকটি ব্যাপার জেলা শাসকের কাছে স্মারকলিপির মাধ্যমে জানিয়েছি। জেলাশাসক এসব জেনে নিজেও আশ্চর্য হয়েছেন। তিনি আমাদের সামনে একজন অতিরিক্ত জেলা শাসককে ডেকে এ ব্যাপারে তদন্ত কমিটি বসিয়ে অতিসত্বর রিপোর্ট জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছেন। তবে আমরা চাই ইন্দ্রানী গোস্বামীর মত একজন বাঙালি বিদ্বেষী এবং স্বৈরাচারী আধিকারিককে অতিসত্বর কাছাড়ের জনসংযোগ বিভাগ থেকে অপসারণ করা হোক। পাশাপাশি একজন সুস্থ মস্তিষ্কের যোগ্য ব্যক্তিকে সেখানে বসানো হোক। জেলাশাসক লায়া মাদ্দুরির কথার উপর আমরা ভরসা রেখে আপাতত অপেক্ষা করব। তবে তিনি বা রাজ্য সরকারের তরফে যদি এব্যাপারে কোনও ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া না হয়, তবে ভবিষ্যতে আইনি পথে যেতে বাধ্য হবো আমরা বলে উল্লেখ করেন আকসার মুখ্য উপদেষ্টা।
সাংবাদিক সম্মেলনে রূপম নন্দি পুরকায়স্থ সহ বিশ্বজিৎ দেব, কাজল চন্দ্র দাস, রিপন লস্কর, নিকিতা বনিক, জয়শ্রী নাথ, পম্পি রায় ও অন্যান্যরা অংশ নেন।
সাংবাদিক সম্মেলনের শুরুতেই প্রয়াত সাংবাদিক রাজা ধরে্য বিদেহি আত্মার শান্তি কামনা করে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয় এদিন।
Comments are closed.