
শিলচরে গ্রিন করিডোর বানিয়ে ও শেষ রক্ষা হলো না, শিলচর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেই মারা গেলেন রোগী
মরণাপন্ন রোগীকে হাসপাতাল থেকে দ্রুত বিমানবন্দরে পৌঁছে দেওয়ার জন্য মঙ্গলবার বরাক উপত্যকার ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো গড়ে তোলা হয়েছিল গ্রিন করিডোর। তবে শেষ রক্ষা হলো না, রোগী বিমানবন্দরে পৌঁছানোর আগেই স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটতে থাকে এবং প্রায় এক ঘণ্টা অপেক্ষা করে আবার শহরের রাস্তায় গ্রিন করিডোর বানিয়ে রোগীকে শিলচর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়া হয়। সেখানে হৃদরোগ জনিত সমস্যায় তার মৃত্যু হয়। এদিন সন্ধ্যা ৬ টা নাগাদ তার মৃত্যু হয়েছে, শিলচর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পক্ষ থেকে এর সত্যতা স্বীকার করা হয়েছে।
হাসপাতালের সহকারী অধ্যক্ষ ডাঃ ভাস্কর গুপ্ত জানিয়েছেন, ২রা মে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হন ৬৮ বছরের প্রমথ কুমার মিশ্রা এবং ৫ মে শিলচর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন । সেখানে কোভিড ওয়ার্ডে আইসিইউতে রাখা হয় তাকে। ১০ মে তার আরটিপিসিআর রিপোর্ট নেগেটিভ হয় তবে পোস্ট-কোভিড কম্প্লিকেশনে ভুগছিলেন তিনি। তাকে হাসপাতালের সেন্ট্রাল আইসিইউতে নেওয়া হয়। তার ফুসফুসের সমস্যা দেখা দিয়েছিল এবং অক্সিজেনের মাত্রা ক্রমশ কমছিল। পরিবারের লোকেরা একসময় সিদ্ধান্ত নেন ওড়িশার ভুবনেশ্বরে আমরি হাসপাতালে তাকে নিয়ে যাওয়া হবে। এই অনুযায়ী তারা আবেদন করেন এবং মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটে নাগাদ তাকে বিশেষ পদ্ধতিতে শিলচর বিমানবন্দরে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে বিমানে ওঠার আগেই তার স্বাস্থ্যের অবনতি হয়, অক্সিজেনের মাত্রা ৭৫ শতাংশের নিচে নেমে যায়। তড়িঘড়ি তাকে আবার শিলচর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। বিকেল ৫টা ২০ মিনিটে তাকে আইসিইউতে ঢোকানো হয় এবং ঠিক এক ঘন্টার মাথায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান তিনি।
কয়েক মাস আগে এক মরণাপন্ন রোগীকে হাসপাতাল থেকে দ্রুত বিমানবন্দরে পৌঁছে দেওয়ার জন্য বরাক উপত্যকায় প্রথমবার গ্রিন করিডোর বানানো হয়েছিল। মঙ্গলবার দ্বিতীয়বারের মতো শিলচরে গ্রিন করিডোর গড়ে ওঠে। তবে আবহাওয়ার প্রতিকূলতার জন্য বেশ কয়েকবার পিছিয়ে নেওয়া হয় পদ্ধতি। শেষমেষ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বিকেল সাড়ে তিনটের সময় বিশেষ বিমান তাকে নিয়ে যাত্রা করবে। সময় মত বিমানটি শিলচর বিমানবন্দরে এসে পৌঁছে যায়। তবে প্রায় এক ঘন্টা ধরে চেষ্টা করলেও রোগীর স্বাস্থ্যের উন্নতি হয়নি এবং তাকে ডাক্তাররা বিমানে যাওয়ার মতো অনুমতি দিতে পারেননি।
প্রমথ কুমার মিশ্রা জাস্টিস জয় কৃষ্ণা মিশ্রার ছেলে এবং ধলাই অঞ্চলে ডার্বি চা বাগানের ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত। তিনি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন এবং ভাইরাস মুক্ত হওয়ার পর পোস্ট-কোভিড কম্প্লিকেশনে ফুসফুসের সমস্যা ভুগছিলেন, শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল এবং শরীর দুর্বল ছিল। তার কন্যা জেলাশাসক কীর্তি জাল্লির কাছে এক চিঠি লিখে বিশেষ বিমান অবতরণের জন্য অনুমতি চেয়েছিলেন। তাকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নো-অবজেকশন সার্টিফিকেট দেওয়া হয়। অসুস্থ ব্যক্তির পরিবারের আবেদন মেনে শিলচর শহরে দ্বিতীয়বারের মতো গ্রিন করিডোর গড়ে তোলা হয়।
পুলিশ বাহিনী একেবারে শিলচর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে বিমানবন্দর এবং পরে বিমানবন্দর থেকে হাসপাতাল পর্যন্ত তাদের পৌঁছে দিতে বিশেষ ভূমিকা পালন করেছে। তবে আগে থেকেই সেই সময় সারা জেলায় লকডাউন পরিস্থিতি থাকায় রাস্তাঘাট ফাঁকা ছিল।
Comments are closed.