Also read in

মিনি সচিবালয়: ৭০ বছরের স্বপ্ন পূরণ হলো বরাকবাসীর,প্রকৃত অর্থে উপত্যকার 'শুভ দিন' আগত, বক্তারা আপ্লুত

 

বরাক উপত্যকার মানুষের ৭০ বছরের স্বপ্ন আজ পূরণ হলো। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও আসামের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়ালের হাত ধরেই বরাকবাসীর এ স্বপ্ন পূরণ হল বলে আনন্দ প্রকাশ করেন শিলচরের সাংসদ রাজদীপ রায়। মঙ্গলবার বরাক উপত্যকার সব রাজনৈতিক নেতা তথা জেলা উপায়ুক্তদের উপস্থিতিতে শ্রীকোনায় বহু প্রতীক্ষিত সচিবালয়ের ভূমি পূজন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাজদীপ রায় বলেন যে সর্বানন্দ সরকার ব্রহ্মপুত্র ও বরাক উপত্যকার উন্নয়নে ভারসাম্য বজায় রাখতে সমর্থ হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, এই উপত্যকার অনেক উন্নয়নমূলক প্রকল্প সর্বানন্দ সরকার গত ৩ বছরে বাস্তবায়ন করেছে এবং আগামী দিনে আরও অনেক উন্নতি ঘটবে বলে তিনি মনে করেন। এছাড়াও তিনি মিনি সচিবালয়ের কাজ সময়মতো সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগকে অনুরোধ জানান। ডক্টর রায় আরও উল্লেখ করেন যে আগামী শীতে আসাম সরকারের কেবিনেট বৈঠক শিলচরে অনুষ্ঠিত হবে বলে মুখ্যমন্ত্রী তাকে জানিয়েছেন।

অনুষ্ঠানে আবগারি ও মৎস্য মন্ত্রী পরিমল শুক্লবৈদ্য বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন, বরাক উপত্যকার জনগণ বেশ কয়েক বছর ধরে একটি মিনি সচিবালয়ের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলেন। অবশেষে সেই স্বপ্নটি বাস্তবায়িত হলো বরাকবাসীর।তিনি মনে করেন যে এর ফলে বিভিন্ন কাজে গুয়াহাটি যেতে মানুষের যে দুর্ভোগ পোহাতে হয় সেটার অবসান ঘটবে। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত পরিমল শুক্লবৈদ্য আরো বলেন, ক্ষমতায় আসার পর থেকেই সর্বানন্দ সোনোয়াল সরকার বরাক উপত্যকার শ্রী বৃদ্ধি ও বিকাশের জন্য অনেক কাজ করে চলেছে। আগে গুয়াহাটি পৌঁছতে যেখানে প্রায় ১৬ থেকে ১৮ ঘন্টা সময় লাগতো সেখানে এখন মাত্র ৬ থেকে ৭ ঘণ্টায় পৌঁছা সম্ভব হয়।

পূর্ব পশ্চিম করিডোর-শিলচর সৌরাষ্ট্র সড়ক প্রকল্পের বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে শুক্লবৈদ্য বলেন, মেগা প্রকল্পটি বিগত সরকারের সময়ে বেশ কয়েক বছর অসম্পূর্ণ হয়ে পড়ে ছিল। ক্ষমতায় আসার পর বিজেপি সরকার দ্রুত এর কাজ শুরু করে। প্রকল্পটি আগামী দু’বছরের মধ্যে শেষ করা হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

দক্ষিণ আসামের বরাক উপত্যকায় মিনি সচিবালয় স্থাপনের প্রক্রিয়াটি মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়ার পর কাছাড়ের জেলা উপায়ুক্ত লায়া মাদ্দুরি স্বাগত বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন, বরাক উপত্যকার জনগণের জন্য এটি একটি অনেক বড় সুযোগ যে আসাম সরকার তাদেরকে এই অঞ্চলে একটি সচিবালয় উপহার দিয়েছে।

পূর্ত বিভাগের (ভবন) তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী প্রবাল দেব জানান যে ১৬ বিঘা এবং ১৫ কাঠা জমির উপর এবং চার কোটি ১৩ লক্ষ ৬৩ হাজার ২৬২ টাকা ব্যয়ে এই সচিবালয় নির্মিত হচ্ছে। উল্লেখ্য, বড়খলা বিধানসভা কেন্দ্রের অধীন শিলচর শহরতলী শ্রীকোনায় এই মিনি সচিবালয় নির্মিত হচ্ছে। প্রকল্পটি আগামী তিন থেকে চার বছরের মধ্যে সম্পূর্ণ হয়ে যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

আসাম বিধানসভার ডেপুটি স্পিকার আমিনুল হক লস্কর বলেন যে মিনি সচিবালয়ের জন্য জায়গাটি অন্য দুটি জেলা হাইলাকান্দি ও করিমগঞ্জের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে খুবই উপযুক্ত।সর্বানন্দ সরকার প্রকৃত অর্থে এই উপত্যকার জন্য ‘শুভ দিন’ নিয়ে এসেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

কাছাড়ের জেলা উপযুক্ত লায়া মাদ্দুরির পৌরহিত্যে অনুষ্ঠিত সভায় প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কবীন্দ্র পুরকায়স্থ, বিধায়ক দিলীপ কুমার পাল, কিশোর নাথ, মিহির সোম,অমর চাঁদ জৈন, সুজাম উদ্দিন লস্কর,নিজাম উদ্দিন চৌধুরী,কংগ্রেসের প্রাক্তন মন্ত্রী ও বর্তমানে বিজেপির সদস্য গৌতম রায় প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।

Comments are closed.

error: Content is protected !!