
করিমগঞ্জে সংক্রান্তির 'আট আনাজ' খেয়ে অসুস্থ বেশ কয়েকজন, ভর্তি হতে হলো হাসপাতালে
বাংলা ক্যালেন্ডার অনুযায়ী গতকাল ছিল আশ্বিন মাসের শেষ দিন- সংক্রান্তি। এই সংক্রান্তিতে আট আনাজ অর্থাৎ আট ধরনের সব্জির তরকারি খাওয়ার রীতি রয়েছে। ঐ তরকারিতে লাউ, কুমড়ার সাথে কচু, ওল জাতীয় সবজি ও থাকার প্রথা।
আর এই আট আনাজের তরকারি খেয়ে খাদ্যে বিষক্রিয়ার কারণে করিমগঞ্জে বেশ কয়েকজন অসুস্থ হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। তারা এই সব্জি খাবার খাওয়ার পরে অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং বর্তমানে কয়েকজন করিমগঞ্জ সিভিল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। করিমগঞ্জ সিভিল হাসপাতালের যুগ্ম পরিচালক ডাঃ অনুপ কুমার দৈতারী গলায় গুরুতর এলার্জির কারণে বেশ কয়েকজন রোগীকে হাসপাতালে ভর্তির ঘটনা নিশ্চিত করেছেন।
‘‘তাদেরকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং প্রাথমিক রোগ নির্ণয়ের পর তাদের চিকিৎসা চলছে,’’ ডাঃ দৈতারি জানান। যাইহোক, ডাঃ দৈতারি ঘটনাটি সম্পর্কে আর কোন তথ্য দিতে পারেননি।
প্রাথমিক ভাবে জানা গেছে যে ১৬-১৭ জনকে এই ধরনের মিশ্র সবজি (আট আনাজ) খাবার খাওয়ার পরে ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হয়েছিল । এই ঘটনায় অন্যতম রোগী চন্দন বিশ্বাস আমাদেরকে জানান, তিনি করিমগঞ্জ পিডব্লিউডি বাজার থেকে আট আনাজের প্যাকেট কিনে এনেছিলেন। প্যাকেটের টুকরো শব্জী গুলো অন্য সব্জির সাথে দিয়ে রান্না করা হয়েছিল। সব্জি মুখে দেওয়ার সাথে সাথে গলায় প্রচন্ড চুলকানি এবং জ্বালা যন্ত্রণা শুরু হয়। বাধ্য হয়ে তাকে তখন করিমগঞ্জ সিভিল হাসপাতালের ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হয়। “সেখানে আমাকে তিনটে ইনজেকশন দেওয়া হয়। প্রায় পাঁচ ঘন্টা হাসপাতালে থাকার পর আমি বাড়ি আসতে সক্ষম হই । তখনো এই ধরনের অনেক রোগী চিকিৎসাধীন ছিল।”
করিমগঞ্জ সিভিল হাসপাতালে আনা এমনই এক রোগীর মুখ থেকে রক্ত পড়ছিল। চিকিৎসক তার অবস্থা সঙ্কটজনক মনে করায় তাকে শিলচর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে রেফার করেন।
করিমগঞ্জ সিভিল হাসপাতালে প্রায় ১০ জন রোগীকে ভর্তি করা হয়েছিল এবং তাদের মধ্যে চারজনকে অবস্থার উন্নতির পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেছেন যে এটি এক ধরণের খাদ্য বিষক্রিয়ার কারণে ঘটেছে। বেশিরভাগ রোগীর গলায় ইনফেকশন হয়েছে এবং তারা কথা বলতে বা খাবার গ্রহণ করতে অক্ষম।
মনে করা হচ্ছে, বিষাক্ত কচুর কন্দ থেকেই গলায় এই বিষাক্ত সংক্রমণ ঘটেছে। ঘটনার বিবরণ শুনে একজন বয়স্ক মহিলা মন্তব্য করেন যে, “আমরা কচু, ওল ইত্যাদি রান্নার সময় একটা বাঁশের কাঠিতে আটকে নিয়ম রক্ষার জন্য তরকারিতে দিতাম এবং রান্নার পর সরিয়ে ফেলতাম, কারণ এগুলো কোন কোন সময় গলায় বিষাক্ত সংক্রমণ ঘটিয়ে থাকে।”
Comments are closed.