Also read in

মিজোরামে মৃত লায়লাপুরের 'নিখোঁজ' ইনতিয়াজ, "মানবাধিকার লংঘন করবেন না", কলাসিবের এসপিকে চিঠি কাছাড় এসপি'র

অসম-মিজোরাম সীমান্ত বিবাদ এখন আর শুধুমাত্র জমি অধিগ্রহণ বিবাদে সীমিত নয়, সংঘাতের ধরুন এক ব্যক্তির প্রাণ গেছে তাও পুলিশ কাস্টডিতে। অসম-মিজোরাম সীমান্ত সংলগ্ন লায়লাপুর এলাকা থেকে রবিবার দুপুরে নিখোঁজ হয়েছিলেন ইনতিয়াজ আলি নামে ৪০ বছরের এক ব্যক্তি। সোমবার মিজোরামের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল তাকে স্মাগলিংয়ের দায়ে আটক করা হয়েছে, তিনি পুলিশ কাস্টডিতে ছিলেন। তবে সেখানেই তার মৃত্যু হয়েছে। কলাসিবের পুলিশ সুপার অসম পুলিশের ডিআইজি দিলীপ কুমার দে এই খবরটি জানিয়েছেন।

ডিআইজিই খবরটি জানিয়ে বলেন, “কলাসিবের পুলিশসুপার আমাদের জানিয়েছেন অসমের ব্যক্তিটি তাদের জেলায় মারা গেছেন। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা তবে সঙ্গে মানবাধিকার লংঘন হয়েছে বলেও মনে করছি আমরা। কাছাড়ের পুলিশ সুপার বিএল মিনা কলাসিবের পুলিশ সুপারকে চিঠি লিখে জানিয়েছেন, তারা যেন শ্রদ্ধা সহকারে মৃতদেহটি ফিরিয়ে দেয়। যদি কোনও ধরনের অভিযোগ থেকে থাকে, সেটা দুই পক্ষ মিলে তদন্ত করবেন, এরপরই কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা হবে। তবে কোনও ব্যক্তি দোষী থাকলেও তাকে এভাবে মেরে ফেলা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

মানবাধিকারসহ যত ধরনের নিয়ম-নীতি এই ঘটনায় লংঘিত হয়েছে, সবগুলো স্মরণ করিয়ে দিয়ে আমরা মিজোরাম সরকারকে বলতে চাইছি, তারা যেন এধরনের ঘটনা আর ঘটতে না দেন। আমাদের এলাকার এক ব্যক্তির এভাবে মৃত্যু হওয়া দুঃখজনক ঘটনা, তবে আমরা নিজেদের সংযত রাখবো। এলাকাবাসীর প্রতি আমার আবেদন আপনারা উত্তেজিত হবেন না। কেন্দ্র সরকারের প্রতিনিধিরা সরাসরি এব্যাপারে নজরদারি করছেন। আমরাও সারাক্ষণ চেষ্টা করছি এলাকার প্রত্যেক ব্যক্তিকে সুরক্ষা দেওয়ার।”

তিনি আরও বলেন, “এই পুরো ঘটনায় যত ধরনের অপরাধমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে সবগুলোই মিজোরামের পক্ষ থেকে এসেছে। আমরা কেন্দ্র সরকারের কথা মেনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিলেও মিজোরাম তাদের কথা রাখছেনা। আমি আশা করছি এবার কেন্দ্র সরকারের পক্ষ থেকে কড়া বার্তা পাঠানো হবে।”

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, রবিবার দুপুর সাড়ে এগারোটা নাগাদ জ্বালানি লাকড়ি খুঁজতে লায়লাপুর এলাকায় অসমের জমিতেই জঙ্গলে গিয়েছিলেন ইনতিয়াজ আলি। এটা তার স্বভাবসিদ্ধ, সব সময়ই তারা এই কাজটি করে থাকেন। কিন্তু এদিন বিকেল পর্যন্ত তিনি ফিরে না আসায় আতঙ্ক দেখা দেয়। কিছুদিন আগেও তিন ব্যক্তিকে আটক করে নিয়ে গিয়েছিল মিজো বাহিনী। তিনি বলেন, “আমার ভাই সেখানে একা ছিল না, কাছাকাছি এলাকার অন্যান্যরাও ছিলেন। হঠাৎ করেই মিজো বাহিনী তাদের উপর হামলা চালায়, অন্যরা পালিয়ে যেতে সমর্থ হলেও আমার ভাই আটকা পড়ে। তারা তাকে তুলে নিয়ে যায়। সীমান্ত সংলগ্ন এলাকা হওয়ায় পরিবারের সঙ্গে মিজো লোকেদের সুসম্পর্ক রয়েছে। তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানা যায় হোয়াটসঅ্যাপে একটি ফটো ঘুরে বেড়াচ্ছে। পরিবারের সদস্যরা ফটোটি দেখে শনাক্ত করেন এটি ইনতিয়াজ আলির ফটো। এবার তাঁর মৃত্যুর খবর পেয়ে আমরা আরও আতঙ্কিত হয়ে পড়েছি।”

পুলিশসুপার বিএল মিনা জানিয়েছেন, একজন ব্যক্তি নিখোঁজ হওয়ায় স্থানীয় থানায় একটি এজাহার জমা পড়ে রবিবার। পরে আমরা জানতে পারি মিজোরামে আসামের এক ব্যক্তি আটক হয়েছেন। আলোচনার মাধ্যমে আমরা তাকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছিলাম। কিন্তু এবার তার মৃতদেহ সম্পূর্ণ সুরক্ষা দিয়ে নিয়ে আসতে হবে। যেসব তদন্ত হবে সেক্ষেত্রে দুইপক্ষ উপস্থিত থেকে সব কাজ করা হবে। আমি ইতিমধ্যে কলাসিব জেলার পুলিশ সুপারকে চিঠি লিখে কথাটি জানিয়েছি। এছাড়া রাজ্য সরকারের কাছেও খবরটি পাঠানো হয়েছে।”

সম্প্রতি প্রায় ১০০ পরিবার অসম-মিজোরাম সীমান্ত এলাকা থেকে সবকিছু ছেড়ে চলে আসার কথা বলেছিলেন। তখন শুধু মাত্র তিনজন নিখোঁজ হয়েছিলেন যাদের পরবর্তীতে পাওয়া যায়। এবার অসমের জমি থেকে এক ব্যক্তিকে উঠিয়ে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হলো। এতে এলাকায় আতঙ্ক কয়েকগুণ বেড়ে যাবে বলেই আশঙ্কা। জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে এব্যাপারে যোগাযোগ করলে তারা বলেছেন, রাজ্য সরকারের কাছে পুরো খবরটি পাঠানো হয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত সুরক্ষা দিতে তারা প্রস্তুত।

Comments are closed.

error: Content is protected !!