
নক্ষত্র পতন : কোভিডে মারা গেলেন করিমগঞ্জের প্রাক্তন ফুটবলার চন্দন লাল
মহামারী করোনা কেড়ে নিল বরাকের ক্রীড়াজগতের নক্ষত্র চন্দন লাল সেন কে। কোভিড আক্রান্ত হয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন করিমগঞ্জের সুনামধন্য এই প্রাক্তন ফুটবলার। মারণ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত পাঁচ দিন থেকে শিলচর মেডিকেল কলেজের আই সি ইউ তে ভর্তি ছিলেন তিনি। মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছিলেন। তবে বুধবার সকালে চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে সকাল সাড়ে নয়টায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৫।
এদিন মেডিকেল কলেজ থেকে চন্দন লাল সেন এর মৃত্যুর সংবাদ আসার সঙ্গে সঙ্গেই গোটা জেলা শোকে মুহ্যমান হয়ে পড়ে। বিশেষ করে গোটা বদরপুর। কারণ বদরপুরের শুধু ফুটবলার হিসেবে নয়, একজন বিশিষ্ট সমাজসেবী হিসেবেও আলাদা পরিচিত ছিল চন্দন সেন এর। এদিন বেলা দুটো নাগাদ জুমবস্তির শ্মশানে কোভিড প্রটোকল মেনে তাঁর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
চন্দন লালের স্কুল জীবন শুরু হয় রেলওয়ে স্কুল থেকে। তখন থেকেই অ্যাথলেটিক্সের প্রতি একটা বাড়তি ঝোঁক ছিল তাঁর। এরপর করিমগঞ্জ কলেজে পড়াশোনা করার সময় কলেজের সেরা ফুটবলার ছিলেন তিনি। ক্লাব ফুটবলে প্রথম করিমগঞ্জের ওয়াই এম সি ক্লাবে যোগ দেন তিনি। জেলা দলের প্রতিনিধিত্ব করেন আর কে জৈন ট্রফিতে। সেই টুর্ণামেন্টে দারুণ পারফরমেন্স করেছিলেন চন্দন সেন। তার সেই পারফরম্যান্স থেকে দারুন প্রভাবিত হয় গুয়াহাটির বিখ্যাত ফুটবল ক্লাব স্পোর্টিং ইউনিয়ন। ১৯৭৩ সালে তিনি যোগ দেন সেই ক্লাবে। টানা চার বছর স্পোর্টিং ইউনিয়নের জার্সিতে চুটিয়ে খেলার পর চাকরি পান শিলংয়ের এজি অফিসে। সেই সুবাদে প্রতিনিধিত্ব করেন শিলংয়ের এ জি ফুটবল দলে। শিলচরের টাউন ক্লাবের হয়েও সুনামের সঙ্গে খেলেছিলেন চন্দন সেন। তার মৃত্যুতে শোক জানিয়ে পতাকা অর্ধনমিত রেখেছে টাউন ক্লাব।
Comments are closed.