
নিয়ম ভাঙায় চিকিৎসকের বিরুদ্ধে শোকজ যুগ্ম স্বাস্থ্য সঞ্চালকের; "মানবিকতার খাতিরে রোগীর পাশে দাঁড়িয়েছিলাম," বললেন অভিযুক্ত
জুন মাসে এক নির্দেশ জারি করে স্বাস্থ্য বিভাগের তরফে বলা হয়েছিল, সরকারি হাসপাতালে দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনও চিকিৎসক আপাতত বেসরকারি হাসপাতালে রোগী দেখা বা অন্য কোনও দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না। এই নির্দেশ অমান্য করার অভিযোগে সম্প্রতি এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে নোটিশ জারি করেছেন কাছাড় জেলার স্বাস্থ্য বিভাগের যুগ্ম সঞ্চালক ডাঃ সুদীপ জ্যোতি দাস।
তাকে নিজের ভুলের জন্য ‘শোকজ’ করা হয়েছে। তবে চিকিৎসককে এবিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, “মানবিকতার খাতিরে কাজটি করেছি, পয়সার জন্য নয়। বর্তমান পরিস্থিতির কথা ভেবে রোগীর প্রাণ বাঁচানোর চেষ্টা করেছিলাম, চিকিৎসক হিসেবে এটাই আমার দায়িত্ব।”
স্বাস্থ্যবিভাগের যুগ্ম সঞ্চালকের কার্যালয় থেকে একটি বিশেষ নির্দেশে চিকিৎসক অরিজিৎ পালকে শোকজ করা হয়েছে। ডাঃ অরিজিৎ পাল সিভিল হাসপাতালের একটি বিশেষ দায়িত্বে নিযুক্ত রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি সম্প্রতি মেহেরপুরের গ্রেসওয়েল হাসপাতালে এক রোগীর চিকিৎসা করেছেন। গর্ভবতী মহিলার সিজার অপারেশন করেন তিনি, এতে একটি সন্তানের জন্ম হয় এবং পরবর্তীতে শিলচর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে মহিলার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর পর মহিলার শরীরে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ পাওয়া যায়।
এছাড়া একজন এমবিবিএস হয়ে সিজারিয়ান অপারেশন কেন করলেন এই প্রশ্নও করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। তার নির্দেশে তিনি বলেছেন, “সহকারি পদে চাকরির জন্য আপনি নিজের যেসব যোগ্যতার কথা উল্লেখ করেছেন এর ভিত্তিতে আপনি গর্ভবতী মহিলার অপারেশন করতে পারেন না। এবিষয়ে আপনার তরফে সদুত্তর চাইছি।”
চিকিৎসক অরিজিৎ পালকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, “মানবিকতার খাতিরে নিজেকে আটকে রাখতে পারিনি। যে রোগীর অপারেশন করেছি, তাকে প্রথমে শিলচর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তবে মেডিক্যালের বর্তমান অবস্থা দেখে পরিবারের সদস্যরা আবার গ্রেসওয়েল হাসপাতালে নিয়ে আসেন। তারা আমার কাছে অনুরোধ করেন আমি যেন রোগীর প্রাণ বাঁচাই।
চিকিৎসক হিসেবে আমার দায়িত্ব শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত রোগীর পাশে দাঁড়ানো। আমরা কারও প্রাণ বাঁচাতে পারি না, প্রয়োজনীয় চিকিৎসার মাধ্যমে রোগীর সহায়তা করতে পারি। আমিও সেই চেষ্টাই করেছিলাম, চিকিৎসক হওয়ার দায়ে, টাকা রোজগার করার জন্য নয়। আমি আমার যুক্তি স্বাস্থ্যবিভাগের কাছে তুলে ধরব, তারা কি সিদ্ধান্ত নেবেন জানিনা। তবে মানবিকতার খাতিরে কাজটি করে যদি শাস্তি পাই, সেটা মাথা পেতে নিতেই হবে।”
Comments are closed.