Also read in

গুরুতর অসুস্থ, সপ্তাহে দুটি ডায়ালাইসিস চলছে জেলার প্রাক্তন তারকা ক্রিকেটার অলক সরকারের

 একটা সময়ে ক্রিকেটের ২২ গজে দাপিয়ে বেরিয়েছেন জেলার তারকা অলরাউন্ডার অলক সরকার। তার মত ধারাবাহিক অলরাউন্ডার শিলচরের ক্রিকেটে খুব কমই দেখা গেছে। ক্রিকেটের যেকোনো ফরম্যাট হোক না কেন, সত্যিকার অর্থে তিনি ছিলেন একজন ম্যাচ উইনার। শুধু জেলাস্তরে নয়, গোটা বরাক উপত্যকার ইতিহাসে অন্যতম সেরা ক্রিকেটার হিসেবে বিশেষ জায়গা জুড়ে রয়েছেন এই ডানহাতি অলরাউন্ডার। ২০০৭ সালে অবসর নিলেও ক্লাবের জন্য তাকে মাঝেমধ্যে মাঠে নামতে হয়েছে। তবে শেষবার টাউন ক্লাবের জার্সি গায়ে ২০১৩ সালে মাঠে নেমেছিলেন অলক। মাঠ থেকে বিদায় নিলেও একজন ক্রীড়া সংগঠক হিসেবে মাঠেই রয়েছেন তিনি। তবে গত দু’বছর থেকে হঠাৎ করেই তার স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটতে শুরু করে। এই মুহূর্তে সপ্তাহে দু’বার ডায়ালাইসিস নিতে হচ্ছে প্রাক্তন তারকা অলরাউন্ডার কে।

গতবছর মার্চ মাসে শারীরিক অস্বস্তির বিষয়টা অনুভব করেন অলক। দেরি না করে বাইরের চিকিৎসার জন্য ব্যবস্থাও করেন। বিমানের টিকিট কাটা হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু মহামারী করোনা বাধা হয়ে দাঁড়ায়। মহামারি ভাইরাসের সংক্রমণ রুখতে গোটা দেশে তখন লকডাউন ঘোষণা করে দেয় কেন্দ্র সরকার। ফলে সব ব্যবস্থা হয়ে যাবার পরও চিকিৎসার জন্য আর বাইরে যাওয়া হয়নি প্রাক্তন ডানহাতি তারকা’র। যার ফলে কিডনির সমস্যা আরো বেড়ে যায়। দু মাস আগেই ব্যাঙ্গালোরে চিকিৎসা করিয়ে এসেছেন প্রাক্তন তারকা। এখন নিয়মিতভাবেই সপ্তাহে দুবার তাকে ডায়ালাইসিস নিতে হচ্ছে।
৮০’র দশকের শেষ ভাগে আন্তঃজেলা অনূর্ধ্ব ১৬ ক্রিকেটে প্রথমবার জেলা দলের প্রতিনিধিত্ব করেন অলক সরকার। সে ছিল শুরু। এরপর নব্বইয়ের দশকের শুরু থেকেই বিভিন্ন স্তরে জেলা দলের হয়ে মাঠে নেমেছেন। এরই মধ্যে যথেষ্ট সুনাম অর্জন করে নেওয়ায় স্থানীয় বড় বড় ক্লাবের জার্সি গায়ে দেওয়ার সুযোগ পান অলক। স্থানীয় এ ডিভিশন লিগে তিনি বিজয়ী সংঘ, তারাপুর এসি, ইন্ডিয়া ক্লাব, ইটখোলা এসি, ক্লাসমেটস ইউনিয়ন এবং টাউন ক্লাবের হয়ে দাপটের সঙ্গে খেলেছেন।
শুধু একজন ক্রিকেটার হিসেবে নয়, একজন অধিনায়ক এবং কোচ হিসেবে ও যথেষ্ট সুনাম অর্জন করেছেন অলক সরকার। কিভাবে একজন খেলোয়াড়ের কাছ থেকে সেরাটা বের করে আনতে হয়, সে বিষয়ে অলকের জুড়ি মেলা ভার। অধিনায়ক হিসেবে সবসময়ই দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে ভালোবাসতেন। জেলা স্তরের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় ধারাবাহিক পারফরমেন্সের জোরে তিন-তিনবার রনজি ট্রায়ালেও ডাক পেয়েছিলেন।
সিনিয়র আন্তঃজেলা ক্রিকেটে খুব কমই এমন ক্রিকেটার রয়েছেন যাদের বোলার হিসেবে ৫ উইকেট এবং সেঞ্চুরিরও রেকর্ড রয়েছে। এ ডিভিশন ক্রিকেট লিগে বেশ কয়েকবার টুর্নামেন্টের টপ স্কোরার এবং ম্যান অব দ্যা সিরিজ এর পুরস্কার পেয়েছেন অলক। মূলত একজন ডানহাতি পেসার হলেও প্রয়োজনে অফ স্পিন ও করতেন।
একজন ক্রীড়া সংগঠক হিসেবেও শিলচরের মাঠে যথেষ্ট অবদান রয়েছে তার। শিলচরের অন্যতম বড় ক্লাব টাউন ক্লাবের ক্রিকেট সচিবের দায়িত্বে রয়েছেন অলক। গত ১৫ বছর থেকে এই দায়িত্বটা পালন করে আসছেন তিনি। টাউন ক্লাবের দল গঠন প্রক্রিয়া থেকে ক্রিকেটের সবকিছুই দেখভাল করে থাকেন এই প্রাক্তন ডানহাতি অলরাউন্ডার। তবে একদিকে করোনা ও অন্যদিকে শরীরটাও ভাল না থাকায় এখন মাঠ থেকে কিছুটা দূরে রয়েছেন প্রাক্তন তারকা।
শরীর মাঠ থেকে দূরে থাকলেও মন কিন্তু ঠিকই মাঠে রয়েছে অলকের। কাউকে দোষারোপ করতে না চাইলেও তার মনের এক কোনায় ছোট্ট একটা অভিমানও রয়েছে। তার কথায়, শিলচর ক্রিকেটের জন্য অনেক কিছু করেছেন। শিলচর জেলা ক্রীড়া সংস্থার জন্য অনেক কিছু করেছেন। কিন্তু আজ যখন তিনি অসুস্থ তখন ডি এস এ তার স্বাস্থ্যের কোন খোঁজখবর নেয়নি। গত দু’বছরে তার শারীরিক অবস্থার কোনো খবর নেয়নি সংস্থা। এমনকি শিলচর ভেটেরন ক্রিকেটার্স ক্লাবের পক্ষ থেকেও কোন খোঁজখবর নেওয়া হয়নি। অথচ আন্তঃজেলা ভেটেরন ক্রিকেটে শিলচরের চ্যাম্পিয়ন হবার পেছনে বিরাট অবদান ছিল অলকের। সেবার ফাইনালের সেরা খেলোয়াড় সহ টুর্নামেন্টেরও সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। নিজের ক্লাব টাউন ক্লাবের প্রতিও তার একটা ছোট্ট অভিমান রয়েছে। যার জন্য কিছুদিন আগে ক্লাবের পক্ষ থেকে তাকে আর্থিক সহায়তা করার প্রস্তাব আসা সত্ত্বেও তিনি তা নাকচ করে দেন। অলকের সাফ কথা, তার সঙ্গে যা হয়েছে, সেটা যেন অন্য কোনও খেলোয়াড়ের সঙ্গে না হয়।

Comments are closed.

error: Content is protected !!