
মহামারী করোনাভাইরাস গোটা বিশ্বের ছন্দ বিগড়ে দিয়েছে। মানুষ যেন স্বাভাবিক জীবনযাপন করাটাই ভুলে গেছেন। সবকিছুই এখন চলছে কোভিড প্রটোকল মেনে।এখনো গোটা বিশ্বে দাপট দেখিয়ে চলেছে করোনা। যদিও অধিকাংশ দেশেই দৈনিক সংক্রমণের হার অনেকটাই কমেছে। তবুও পরিস্থিতি কিন্তু এখনো স্বাভাবিক থেকে অনেক দূরে। তাই বলে মানুষের জীবন তো আর এক জায়গায় থেমে থাকে না। সারা বিশ্বেই এখন চলছে ছন্দে ফেরার লড়াই। ব্যতিক্রম নয় খেলাধুলার মাঠও। করোনাকালেই ইউএইতে আইপিএল আয়োজন করেছে ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড। এবার মাঠে নামলো অসম ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনও ( এ সি এ)।করোনার জেরে দীর্ঘদিন গৃহবন্দী থাকার পর এবার রাজ্যের ক্রিকেটারদের ছন্দে ফেরাবার উদ্যোগ নিল তারা। খেলোয়াড়দের ম্যাচের জন্য ফিট করে তুলতে ১২ দিনের ফিটনেস ক্যাম্প আয়োজন করেছে এসি এ। গুয়াহাটিতে এসিএর বর্ষাপাড়া স্টেডিয়ামে বসেছে এর আসর। এতে ডাকা হয়েছে বিভিন্ন জেলার অনূর্ধ্ব ১৯, অনূর্ধ্ব ২৩ এবং রনজি খেলোয়াড়দের।
করোনাকালে এই প্রথম কোনও ক্যাম্প আয়োজন করল এ সি এ। আসলে ক্রিকেট মরশুমের আগে রাজ্যের বিভিন্ন জেলার খেলোয়াড়দের ম্যাচ ফিট করে তুলতেই ১২ দিনের এই ক্যাম্প ডেকেছে এ সি এ। কোভিড ১৯ এর প্রটোকল মেনেই এর আয়োজন করেছে তারা।
ক্যাম্পে শিলচর থেকে ডাক পেয়েছেন তিন রনজি তারকা প্রীতম দাস, অভিষেক ঠাকুরি এবং রাহুল সিং। এরমধ্যে প্রীতম ও অভিষেক ক্যাম্পে যোগ দিয়েছেন। আর রাহুল ক্যাম্পে যোগ দেবেন ইউ এ ই থেকে ফিরে। বাঁহাতি তারকা স্পিনার রাজস্থান রয়ালসের নেট বোলার হিসেবে আইপিএলে রয়েছেন। রবিবার রাতে আইপিএল থেকে ছিটকে গিয়েছে রাজস্থান। তাই মনে করা হচ্ছে চলতি সপ্তাহেই এসি এর ফিটনেস ক্যাম্পে যোগ দেবেন রাহুল।
দীর্ঘদিন গৃহবন্দী থাকার ফলে এবার ছন্দে ফেরার জন্য কঠিন লড়াই করতে হবে ক্রিকেটারদের। এজন্য ম্যাচ ফিট হতে হবে। কথাটা ভাল করেই জানেন কাছাড় এক্সপ্রেস প্রীতম দাস। তিনি বলছিলেন, ‘দীর্ঘদিন পর মাঠে ফিরতে পেরে খুব ভালো লাগছে। অনেকদিন পর রাজ্যের সহ খেলোয়াড়দের সঙ্গে দেখা হল। মনে হচ্ছে যেন সেই আগের পরিবেশটা ফিরে এসেছে।’
এ সি এর ফিটনেস ক্যাম্পে ট্রেনারের দায়িত্বে রয়েছেন ভাস্কর বরা। তিনি অসম রনজি দলেরও ট্রেনার। লকডাউন চলাকালীন গুয়াহাটিতে ছিলেন প্রীতম। সেখানে ভাস্কর বরার কাছেই ফিটনেস ট্রেনিং নিয়েছেন। প্রীতম মনে করেন ছন্দে ফিরতে এই ক্যাম্প খুবই কাজ দেবে। তিনি বলেন, ‘ক্যাম্পে বিভিন্ন ড্রিলস করানো হচ্ছে। পেশির জোর বাড়াতে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। একজন পেসারের জন্য এগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’
এ সি এ ক্যাম্প আয়োজন করলেও মহামারী ভাইরাসের জেরে ঘরোয়া ক্রিকেটের সূচি কিন্তু অনিশ্চিত। ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড আগেই জানিয়ে দিয়েছে, এবার ঘরোয়া ক্রিকেটের সব টুর্নামেন্ট আয়োজন করা সম্ভব নয়। বাদ পড়তে পারে বিজয় হাজারে ট্রফি সহ আরো একাধিক টুর্নামেন্ট। সংশয় রয়েছে রনজি ট্রফি নিয়েও। তবে প্রীতম আশাবাদী, নতুন বছরের শুরু থেকেই পরিস্থিতি পাল্টাবে। সেই সঙ্গে রনজি ট্রফিও আয়োজন করবে বি সি সি আই। শিলচরের তারকা পেসার বলেন, ‘দেখুন, আগের তুলনায় পরিস্থিতি অনেকটাই বদলেছে। দৈনিক সংক্রমণের হার কমেছে। তাই নতুন বছরের শুরুতে যদি বাজারে করোনা ভ্যাকসিন চলে আসে তাহলে পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে যাবে। তখন আর ঘরোয়া ক্রিকেট আয়োজনে বোর্ডের কাছে কোনো বাধা থাকবে না। আমি অন্তত সেটাই আশা করছি।’
Comments are closed.