Also read in

রেল পুলিশের দুর্ব্যবহারের শিকার শিলচরের সংস্কৃতিকর্মী শ্বেতা রায়

প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে আসামের মুখ্যমন্ত্রী সহ সবাই যখন সবার মধ্যে ভাতৃত্বের বন্ধনের ওপর জোর দিচ্ছেন তখন শিলচরের শ্বেতা রায় এমনই এক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হলেন যাকে তিনি সম্ভবত দুঃস্বপ্ন বলেই অভিহিত করতে চাইবেন। শ্বেতা যাচ্ছিলেন কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেসে চেপে শিলচর থেকে শিয়ালদহ। তিনি এবং তার মা স্লিপার ক্লাস কোচে রিজার্ভেশন সহ যাচ্ছিলেন‌। সবকিছু ঠিকই চলছিল। কিন্তু ট্রেনটি যখন কামাখ্যা স্টেশনে পৌঁছায় তারা দেখতে পান একজন রেলওয়ে পুলিশ কনস্টেবল রিজার্ভেশন কোচের ভেতর এমন সব যাত্রীদের গাইড করছেন যাদের একজনেরও রিজার্ভেশন ছিল না এবং স্লিপার ক্লাস কোচ তখন ভিড়ে ঠাসা ছিল। এরপর স্বেতা রায় ওই কনস্টেবলকে প্রশ্ন করেন, রিজার্ভেশন কোচের ভেতরে সাধারণ যাত্রীদের, যাদের আদৌ রিজার্ভেশন নেই তাদেরকে কোচ থেকে বের করে না দিয়ে কেন তাদের সাহায্য করছেন?

শ্বেতা আমাদের জানালেন, এরপরই সমস্যাটা শুরু হলো। কারণ এভাবে তাকে প্রশ্ন করাটা কনস্টেবলের মোটেই পছন্দ হয় নি। কনস্টেবল সঙ্গে সঙ্গে শ্বেতাকে বলল, “অসমিয়ায় কথা বলুন। আমি বাংলা বুঝতে পারি না।” এরপর শ্বেতা কনস্টেবলকে হিন্দিতে একই প্রশ্ন করলে সে রেগে গিয়ে বলল, ” আমি হিন্দি বুঝতে পারি না। আপনি অসমিয়া ভাষায় কথা বলুন।” ততোক্ষণে ট্রেনটি কামাখ্যা স্টেশন ছেড়ে দিয়েছে এবং পরবর্তী স্টেশনটি ছিল রঙ্গিয়া, যা ব্রহ্মপুত্র ভ্যালিতে অবস্থিত। ডিউটিতে থেকে কিভাবে সে রিজার্ভেশন ছাড়া সাধারণ যাত্রীদের এই কোচে উঠাচ্ছে জানতে চাইলে কনস্টেবল তাকে উত্তর করে, ” এটা কি আপনার বাবার ট্রেন? যদি ক্ষমতা থাকে তাহলে তাদেরকে বাইরে বের করে আমাকে দেখাও।”

Posted by Sweta Roy on Monday, June 24, 2019

শ্বেতা আরো জানালেন, কনস্টেবলটি দস্তুর মত তার উপরে চিৎকার চেঁচামেচি করছিল। সে চিৎকার শুনে তার মা দৌড়ে আসেন। শ্বেতা বললেন, “আমার মার সঙ্গেও সে দুর্ব্যবহার করেছে। যাদের রিজার্ভেশন রয়েছে, সেই যাত্রীরা যখন ব্যাপারটি নিয়ে কথা বলতে যান তখন কনস্টেবল আরো রেগে যায়। এমনকি সে আমাকে ধাক্কাও মারে।” সেই কনস্টেবলটি মদ খেয়ে ছিল বলে অনেকেই বুঝতে পারছিলেন।

শ্বেতা কনস্টেবলের বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল করবেন বলে জানিয়ে তার নাম বলতে বলেন। ঠিক তখনই কনস্টেবল ইউনিফর্ম থেকে বেইজ ছিড়ে বাইরে ফেলে দেয়। যদিও একটি ভিডিওতে তার বেজে তার নাম দেখা গেছে মীর হোসেন আলি বলে।

ট্রেনটি যখন রঙ্গিয়া স্টেশনে পৌঁছায় সে কনস্টেবল প্লাটফর্মে লাফ দেয় এবং দৌড়ে সেখান থেকে পালিয়ে যায়। শ্বেতা এবং তার সহযাত্রীরা অভিযোগ দায়ের করতে গেলে স্টেশন মাস্টার জানান যে নিউ বঙ্গাইগাঁওয়ে অভিযোগ দায়ের করতে হবে। “যখন আমরা নিউ বঙ্গাইগাঁও স্টেশনে পৌঁছে কমপ্লেন বুথে গেলাম তখন তারা আমাদের জানালো যে তারা শুধু হারিয়ে যাওয়া এবং খুঁজে পাওয়া জিনিসগুলোর ব্যাপারে অভিযোগ নথিভুক্ত করে। রেলওয়ে পুলিশ অফিসারের বিরুদ্ধে হয়রানি বা অপমানের অভিযোগ নথিভূক্ত করে না।” জানালেন শ্বেতা।

তার পরিবারের সদস্যরা এ ঘটনাটি জানার পর রেল মন্ত্রী পিযুষ গোয়েল, রেল মন্ত্রক এবং অন্যান্য সরকারি কর্তৃপক্ষকে ট্যাগ করে টুইট করেন। শ্বেতা আমাদের এও জানালেন, “ট্রেনটি যখন ফারাক্কা স্টেশনে দাঁড়ায় তখন একটি দল আমাদের কাছে এসে পুরো ঘটনাটি জানতে চায়। আমরা যা যা বলেছি তা সব নোট করে নিয়ে ওরা চলে যান”।

শ্বেতা এবং তার মা পশ্চিমবঙ্গের শিয়ালদহ স্টেশনে পৌঁছে একটি এফআইআর দায়ের করতে চান‌।

এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে, শ্বেতা রায় বরাক উপত্যকার সামাজিক তথা সংস্কৃতিকর্মী হিসেবে একটি জনপ্রিয় নাম। তিনি বরাক ভ্যালি ভলাণ্টারি ব্লাড ডোনার্স  ফোরামের একজন কার্যকরী সদস্যা এবং বরাক উপত্যকায় রক্তদান কর্মসূচিতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে থাকেন।

Comments are closed.

error: Content is protected !!