Also read in

বলেশ্বর জলপ্রপাতে হারিয়ে যাওয়া ২২ বছরের তফজুলের মৃতদেহ উদ্ধার করল এসডিআরএফ

শেষ পর্যন্ত উদ্ধার করা হলো ২২ বছরের তফজুল আহমেদ বড়ভূইয়ার মৃতদেহ। আজ সকাল ১০ টায় তার মৃতদেহ উদ্ধার করতে সমর্থ হয়েছে এসডিআরএফ। গতকাল বলেশ্বর জলপ্রপাতে আরো কয়েকজন বন্ধু-বান্ধবের সঙ্গে এই স্বল্প বয়সী ছেলেটি আনন্দে মাতোয়ারা হয়ে উঠলেও শেষ পরিণাম কিন্তু ভয়ংকর হয়ে উঠলো। কালাইনের বাসিন্দা তাফজুল বন্ধু-বান্ধবের সঙ্গে জলপ্রপাত দেখতে গিয়ে কোন এক সময় বিপদজনক একটি পাথরের উপর থেকে পা পিছলে নিচে পড়ে যায়। সব আনন্দ ধুলোয় মিশে যায়। কয়েক মুহুর্তের মধ্যে সে হারিয়ে যায়। আর তার সন্ধান পাওয়া যায়নি।

স্থানীয়রা তল্লাশি অভিযান চালালেও এতে কোনো কাজ হয়নি।এরপর স্থানীয় পুলিশ আধিকারিকরা এসডিআরএফ’কে বিষয়টি জানান। এসডিআরএফ তল্লাশি শুরু করলে আজ সকাল দশটায় একটি পাথরের পাশ থেকে তফজুলের মৃতদেহটি উদ্ধার করে। তফজুল পা পিছলে যে জায়গায় পড়েছিল তার থেকে মাত্র ১০০ মিটার দূরে নদীর নিচে পাথরের খাঁজে মৃতদেহটি আটকে ছিল। মৃতদেহ উদ্ধার করার পর পুলিশ সেটিকে ময়নাতদন্তের জন্য শিলচর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠিয়েছে।

এখানে উল্লেখ করা যায়, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের পার্শ্ববর্তী জালালপুর অঞ্চলে অবস্থিত এই বলেশ্বর জলপ্রপাত। আসাম মেঘালয় আন্তঃসীমান্ত সংলগ্ন এই বলেশ্বর জলপ্রপাত নিয়ে একদল তরুণ সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও আপলোড করার পর এই জলপ্রপাতটি জনপ্রিয় হয়ে উঠে এবং এখানে ভিড় জমতে থাকে। তাছাড়া সংবাদ মাধ্যমগুলোতেও এই জলপ্রপাত নিয়ে ফলাও করে সংবাদ বেরোনোর পর অনেক মানুষ এখানে আসতে শুরু করেন এবং ভিড় বাড়তে থাকে।

এদিকে এই ঘটনার পর বলেশ্বর জলপ্রপাতে যাবার দুটি পথই জালালপুর চা বাগান কর্তৃপক্ষ ও বন বিভাগ আজ দুপুর থেকে বন্ধ করে দিয়েছে। তফজুলের মতো যাতে করে আর কেউ বিপদে না পড়েন তার জন্যই এই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তারপরও যদি কেউ ওই স্থানে যাবার চেষ্টা করেন তবে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।

Comments are closed.

error: Content is protected !!