
সোয়াব রিপোর্টে বিলম্ব ! হাইলাকান্দির কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে আবাসিকদের অনশন ঘিরে হুলস্থুল, উত্তেজনা
সোয়াব টেস্টের রিপোর্ট আসতে বিলম্ব হওয়ার কারণে অর্ধশতাধিক আবাসিকের অনশন, প্রতিবাদী আন্দোলন, কোয়ারেন্টাইন সেন্টার থেকে বেরিয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টা ইত্যাদি বিক্ষিপ্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে শনিবার রীতিমতো উত্তপ্ত হয়ে ওঠে হাইলাকান্দির কৃষ্ণপুরের জয়মঙ্গল হাইস্কুল কোয়ারেন্টাইন সেন্টার। আবাসিকদের হৈ হট্টগোলকে কেন্দ্র করে এক হুলস্থুল পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
রাজ্য সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রী ড: হিমন্ত বিশ্ব শর্মার প্রতিশ্রুতি মতো কেন নির্ধারিত সময় সীমার মধ্যে করোনা টেস্টের রিপোর্ট আসেনি এ প্রশ্ন তুলে এদিন সকালে অনশন ধর্মঘট শুরু করেন কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে থাকা অর্ধশতাধিক আবাসিক। তাদের আন্দোলনের খবর এলাকায় চাউর হতেই সেন্টারের বাইরে ভিড় বাড়তে থাকে। খবর পেয়ে কাটলিছড়ার মহকুমাশাসক জেমস আইন্ড, লালার সার্কোল অফিসার অর্পিতা দত্ত মজুমদার, হাইলাকান্দি পুলিশের ডিএসপি ফয়েজ আহমেদ, লালা প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রের ইনচার্জ ডাঃ জাহিদুল ইসলাম, ওসি লিটন নাথ সহ লালা থানা, আব্দুল্লাপুর ফাঁড়ির পুলিশ, সি আর পি এফ বাহিনী একে একে সবাই ঘটনাস্থলে পৌঁছান।
প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে আবাসিকদের কাছে তাদের আন্দোলন প্রত্যাহার করতে অনুরোধ জানানো হয়। কিন্ত কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে থাকা
আবাসিকরা সেন্টারে সরবরাহ করা খাদ্যের গুণগত মান সহ সোয়াব টেস্টের রিপোর্ট আসতে বিলম্ব কেন হচ্ছে প্রশ্ন তুলে আন্দোলন প্রত্যাহার করতে রাজি হন না। তারা সেন্টারের গেইটের ভেতর বসে অনশন ধর্মঘট শুরু করেন।তাদের বক্তব্য, স্বাস্থ্য মন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী বাহাত্তর ঘন্টার মধ্যে তাদের সোয়াব টেস্টের রিপোর্ট আসা উচিত।তাদের প্রতিবাদী আন্দোলনে গোটা কোয়ারেন্টাইন সেন্টারের পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
তারা জানান, তাদের সঙ্গে থাকা কয়েকজনের রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। কয়েক জনের সোয়াব টেস্টের রিপোর্ট পজিটিভ এলেও তাদের রিপোর্ট প্রায় কুড়ি দিনেও আসে নি, যার ফলে তাদেরকে বন্দিজীবন কাটাতে হচ্ছে।
একসময় উত্তেজিত আবাসিকরা সেন্টারের দেওয়াল টপকে বাইরে বেরিয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টা চালান। যদিও পুলিশ প্রশাসনের তৎপরতায় বের হতে পারেন নি। হাইলাকান্দি পুলিশের ডিএসপি ফয়েজ আহমেদ তাদেরকে আশ্বাস দিয়ে বলেন , জেলা প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করে শীঘ্রই তাদের রিপোর্ট আনার ব্যবস্থা করবেন।তবে শেষ পর্যন্ত এদিন বিকেল চারটা নাগাদ প্রশাসনের তৎপরতায় অর্ধ শতাধিক আবাসিক আন্দোলন প্রত্যাহার করেন।
Comments are closed.