Also read in

বিশ্বরেকর্ডের দোরগোড়ায় কাছাড় জেলা, গড়ে উঠছে সবথেকে বড় আলপনা

সিস্টেমেটিক ভোটারস এডুকেশন এন্ড ইলেকট্রনিক্স পার্টিসিপেশন (এসভিইইপি)-এর আওতায় অনুষ্ঠান আয়োজন করছে কাছাড় জেলা প্রশাসন। এবার তারা গড়তে চলেছেন এক বিশ্ব রেকর্ড। পৃথিবীর সবথেকে বড় আলপনা বা রঙ্গোলি গড়ে তোলার কাজ শুরু হয়েছে এবং বিকেল পাঁচটার মধ্যে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। ইন্ডিয়া বুক অফ রেকর্ডস বিভাগ এর তরফে আধিকারিকরা কাজটি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং তারাই ঠিক করবেন এটি আদৌ রেকর্ড হয়েছে কিনা।

সকাল পাঁচটায় মহাসড়কের ডলু পয়েন্ট থেকে কাজটি শুরু হয়েছে, ৮ কিলোমিটার রাস্তা বিভিন্ন আলপনা একে সাজানো হচ্ছে। কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রছাত্রী থেকে শুরু করে চা বাগান কর্মী, পুলিশ আধিকারিক, সেনা জওয়ান এবং জেলাশাসক নিজে সকাল থেকে আলপনা বানাচ্ছেন। মহাসড়কের এক পাশ দিয়ে গাড়ি চলাচল করছে এবং অন্য পাশে গড়ে উঠছে আলপনা। শুধু কাছাড় জেলা নয়, সারাদেশে অতীতে এমন কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

নির্বাচন পর্যবেক্ষক অম্লান বিশ্বাস এই বিষয়ে বলেন, “নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার পাশাপাশি আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে ভোট দাতাদের ভোট দানে আকৃষ্ট করা। এই উদ্দেশ্য নিয়েই কাছাড় জেলায় প্রশাসন এক অভিনব পদ্ধতি হাতে নিয়েছে যা শুধুমাত্র জেলা নয় বাইরের লোক এদের আকৃষ্ট করবে। যেহেতু মহা সড়কের এক পাশে আলপনা আঁকা হচ্ছে, যারাই এর পাশ দিয়ে যাচ্ছেন মধ্যে সচেতনতা জাগার সম্ভাবনা রয়েছে। এত বড় একটি কাজে যেভাবে সুপরিকল্পিত পদ্ধতিতে সম্পন্ন হচ্ছে। আমার বিশ্বাস আগামী নির্বাচনেও একইভাবে সুশৃঙ্খলা চোখে পড়বে।”

জেলাশাসক বলেন, “আমরা যতটুকু জানি ভারতবর্ষের সবথেকে লম্বা আলপনা আঁকার রেকর্ড হচ্ছে চার কিলোমিটারের, যদি শুধুমাত্র রেকর্ড ভাঙার উদ্দেশ্য হতো তাহলে সাড়ে চার কিলোমিটার বানালেই আমাদের কাজ হয়ে যেত। কিন্তু আমাদের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে জনগণকে সচেতন করা এবং এই কাজে তাদের যুক্ত করা হয়েছে। চা-বাগান এলাকার মহিলা থেকে শুরু করে কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা, আমাদের আধিকারিকরা, প্রত্যেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই কাজে যোগ দিয়েছেন। অনেকেই এগিয়ে এসে রং, তুলি ইত্যাদি কিনে দিয়েছেন। যারা এই কাজে স্বতঃস্ফূর্ত যোগদান দিচ্ছেন, তাদের মাধ্যমেও সচেতনতা ছড়াবে। আমরা একটা রেকর্ড করতে চাইছি যাতে জনগণের কাছে খবরটি বেশি করে পৌঁছয় এবং তারা সচেতন হয়ে ভোট দিতে আসেন। আমাদের কাজ অনেকটাই শেষ হয়ে গেছে এবং মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ৮ কিলোমিটার লম্বা আলপনা আঁকার বিশ্বরেকর্ড গড়ে তোলার দোরগোড়ায় রয়েছি আমরা। কি করে মহিলাদের আকৃষ্ট করা হচ্ছে কারণ নারী শক্তি আমাদের কাছে অগ্রাধিকার পায়। আমি একজন মহিলা জেলাশাসক এবং আমার প্রায় অর্ধেক আধিকারিক মহিলা। আমাদের ভোটদাতার অর্ধেক হচ্ছেন মহিলা। তাদের উদ্বুদ্ধ করলে পরিবারের অন্যরা ভোটদানে আকৃষ্ট হবে।”

ইন্ডিয়া বুক অফ রেকর্ডসের দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন জিতেন্দ্র কুমার জৈন। তিনি বলেন, “ভোট দাতাদের সচেতন করতে এমন উদ্যোগ আগে কখনো নিতে দেখা যায়নি। অবশ্যই এই উদ্যোগটি জাতীয় স্তরের রেকর্ড গড়তে চলেছে। আমরা আগামীতে যাচাই করে দেখব আন্তর্জাতিক স্তরে এটা কোনও রেকর্ড গড়ছে কিনা। এরপরেই ঘোষণা করা হবে। আপাতত আমরা আগামী বছর ইন্ডিয়া বুক অফ রেকর্ডস এই কাজটিকে তালিকাভুক্ত করছি।”

Comments are closed.

error: Content is protected !!