
রিও অলিম্পিকে অল্পের জন্য পদক হাতছাড়া হয়েছিল ভারতের তারকা জিমন্যাস্ট দীপা কর্মকারের। চতুর্থ স্থান নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছিল আগরতলার মহিলা অ্যাথলিটকে। তবে গোটা ভারতবর্ষের জন্য সেটা ছিল এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। কারণ সেবারই প্রথম কোন ভারতীয় মহিলা জিমন্যাস্ট পদকের এত কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলেন। রিও অলিম্পিকে পদুনোভা ভোল্ট দিয়ে গোটা বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন দীপা। অলিম্পিকের পদক হাতছাড়া করার জ্বালা নিয়েই টোকিও অলিম্পিক এর জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন দীপা এবং তার দ্রোণাচার্য কোচ বিশ্বেশ্বর নন্দী। দু’বছর আগে পায়ে চোট পেয়েছিলেন তারকা জিমন্যাস্ট। তবে চোট সারিয়ে ছন্দে ফিরে এসেছিলেন তিনি। গুরু বিশ্বেশ্বর নন্দীর অধীনে চুটিয়ে অনুশীলন করছিলেন আগরতলার এন এস আর সি সিতে। তবে তার সেই প্রস্তুতিতে জল ঢেলে দিতে পারে মহামারী করোনা।
অলিম্পিকের আগে একটা আন্তর্জাতিক জিমনাস্টিক চ্যাম্পিয়নশিপ আয়োজনের কথা ছিল আন্তর্জাতিক জিমনাস্টিক ফেডারেশনের। কিন্তু করোনার জন্য সেটা এখনো সম্ভব হয়নি। এই চ্যাম্পিয়নশিপ টোকিও অলিম্পিকের কোয়ালিফাই রাউন্ড। অর্থাৎ সেই টুর্নামেন্টের ভালো পারফর্ম করলেই মিলবে অলিম্পিকের টিকিট। তবে করোনার জন্য এখন পর্যন্ত অলিম্পিকে যোগ্যতা অর্জন পর্ব আয়োজন করতে পারিনি ফেডারেশন। আগামী ৩০ জুনের মধ্যে এই নিয়ে একটা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারে তারা। যদিও চাম্পিয়নশিপ হলে কোথায় ও কবে থেকে হবে, সেটা নিয়ে এখনও আলোচনা চলছে।
সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে, টোকিও অলিম্পিক এর আসরও এই মুহূর্তে অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। জাপানের সাধারণ নাগরিক থেকে শুরু করে চিকিৎসকরাও টোকিও অলিম্পিক এর বিরোধিতা করছেন। যদিও আয়োজকদের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে এ বছর অলিম্পিক হবেই। কিন্তু বাস্তব হচ্ছে শুধু জিমনাস্টিক নয়, আরো বেশকিছু ইভেন্টের কোয়ালিফাই রাউন্ডই অনুষ্ঠিত হয়নি। তাই সব মিলিয়ে টোকিও অলিম্পিক নিয়ে অনিশ্চয়তা আরো বেড়েই চলেছে।
এসবের মধ্যেই কিন্তু গত দেড় বছর থেকে অলিম্পিকের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন দীপা। তার প্রথম টার্গেট ছিল অলিম্পিকের কোয়ালিফাইং টুর্ণামেন্টে ভালো পারফর্ম করা। কিন্তু এখন পর্যন্ত করোনার জেরে কোয়ালিফাই চাম্পিয়নশিপ অনুষ্ঠিত হয়নি। যদি শেষ পর্যন্ত কোয়ালিফাই চাম্পিয়নশিপ সম্পূর্ণ না হয় তাহলে কন্টিনেন্টাল কোটা দিয়ে দেবে আন্তর্জাতিক জিমনাস্টিক ফেডারেশন। এই কন্টিনেন্টাল কোটার অর্থ হচ্ছে, এশিয়া থেকে শুধু দুজন জিমন্যাস্ট অলিম্পিকের আসরের ছাড়পত্র পাবেন। আর এমনটা হলে ভারত থেকে প্রণতি নায়েক যাবেন টোকিও অলিম্পিকে। বাদ পড়ে যাবেন দীপা কর্মকার। এর কারণ হচ্ছে, দু’বছর আগে ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন প্রণতি। সেই সময় চোটের জন্য বাইরে ছিলেন দীপা। এশিয়ার কোটা থেকে দ্বিতীয় মহিলা জিমনাস্ট হিসেবে গেমসের এর মূল পর্বে যাবেন শ্রীলংকার একজন।
দীপার দ্রোণাচার্য কোচ বিশ্বেশ্বর নন্দী বরাক বুলেটিন কে বলেন, ‘অলিম্পিকের জন্য দীপা প্রস্তুত। তবে অলিম্পিকের আগে তো কোয়ালিফাই চ্যাম্পিয়নশিপে নামতে হবে। এখানেই সমস্যা দেখা দিয়েছে। করোনার জন্য কোয়ালিফাই চ্যাম্পিয়নশিপের আয়োজন করতে পারছেনা আন্তর্জাতিক ফেডারেশন। তবে শোনা যাচ্ছে আগামী ৩০ জুনের মধ্যে একটা চ্যাম্পিয়নশিপ আয়োজন করা হতে পারে। আমরা সেদিকে নজর রেখেই প্রস্তুত হচ্ছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘করোনা কালেও প্রস্তুতিতে খামতি রাখছেনা দীপা। চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। মহামারি ভাইরাসের জন্য সবকিছু বন্ধ। তাই প্রতিদিন সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় আমি অনলাইনে ক্লাস করাচ্ছি। দীপার সঙ্গে অন্য জিমনাস্টরাও ক্লাসে অংশ নিচ্ছে। সব মিলিয়ে আমরা কিন্তু প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু এখন অপেক্ষা করা ছাড়া আমাদের আর কিছু করার নেই। দেখা যাক পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়।’
আরো একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, আমেরিকা এবং অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশ এই মুহূর্তে ভারতীয়দের ব্যান করে রেখেছে। অর্থাৎ এই মুহূর্তে ভারতীয়রা অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশে যেতে পারবেন না। তাই কোয়ালিফাই চ্যাম্পিয়নশিপ অনুষ্ঠিত হলেও সেখানে ভারতীয়দের যাবার ছাড়পত্র মিলবে কিনা, সেটা নিয়েও কিন্তু একটা প্রশ্ন চিহ্ন রয়েছে। সব মিলিয়ে মহামারী করোনা দীপার অলিম্পিকের স্বপ্নে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
Comments are closed.