
ভুতুড়ে কান্ড : দ্বিতীয় ডোজ ছাড়াই ভ্যাকসিন সম্পন্ন হওয়ার মেসেজ পেলেন সুস্মিতা দেবও
যারা কোভিড-১৯ প্রতিরোধী ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ নিয়েছেন তাদের দ্বিতীয় ডোজ না দিয়েই ভ্যাকসিন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার সার্টিফিকেট প্রদান করা হচ্ছে। সম্প্রতি এক স্বাস্থ্য আধিকারিক বলেছিলেন ঘটনাটি ভুলক্রমে হয়েছে এবং শুধুমাত্র ৮ এপ্রিল ভুলটি হয়েছিল। তবে এখনও অনেকেই মেসেজটি পাচ্ছেন এবং তারা আদৌ দ্বিতীয় ডোজ পাবেন কিনা, এটা নিয়ে চিন্তিত। এবার এটি পেয়েছেন প্রাক্তন সাংসদ সুস্মিতা দেবও। তিনি গতকাল মেসেজটি পেয়েছেন এবং অদ্ভুত কথাটি টুইটারে তুলে ধরেছেন।
যখন প্রথম দিকে ভ্যাকসিন প্রদান প্রক্রিয়া শুরু হয়, বলা হয়েছিল দ্বিতীয় ডোজ ঠিক ২৮ দিনের মাথায় দেওয়া হবে। পরবর্তীতে নিয়ম কিছুটা পাল্টে যায় এবং দ্বিতীয় ডোজ দেওয়ার ক্ষেত্রে খানিকটা দেরি হবে বলে জানানো হয়। তবে একজন-দু’জন নয়, কাছাড় জেলার কয়েকশো মানুষ ইতিমধ্যে নির্ধারিত ২৮ নম্বর দিনে মেসেজ পেয়েছেন, তাদের নাকি দ্বিতীয় ডোজ সম্পন্ন হয়েছে, এমনকি অনলাইনে সার্টিফিকেটও ইস্যু করে দেওয়া হয়েছে। প্রথম ডোজ যে ডাক্তার দিয়েছেন, তিনিই দ্বিতীয় ডোজের সার্টিফিকেট ইস্যু করছেন।
রবিবার প্রাক্তন সাংসদ সুস্মিতা দেব জানান তিনিও দ্বিতীয় ডোজ না নিয়ে ভ্যাকসিন প্রদান প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার মেসেজ পেয়েছেন। তিনি কথাটি টুইটারে তুলে ধরেন এবং কয়েক হাজার মানুষ সেটা রি-টুইট করেন। অনেকেই বলতে শুরু করে দিয়েছেন এটা ভ্যাকসিন নিয়ে একটি স্ক্যাম হতে পারে। বিভিন্ন রিপোর্ট বলছে ভারতবর্ষে ভ্যাকসিনের আকাল দেখা দিচ্ছে এবং এটা ঢাকতেই হয়ত দ্বিতীয় ডোজ না দিয়ে চূড়ান্ত সার্টিফিকেট ইস্যু করা হচ্ছে, এমনটাই মন্তব্য করেছেন কেউ কেউ।
সুস্মিতা দেব বলেন, “১১ মার্চ শিলচরে আমি প্রথম ডোজ নিয়েছিলাম, নির্ধারিত ২৮ নম্বর দিনে আমাকে যেতে মানা করেন স্বাস্থ্যকর্মীরা, তারা বলেন অন্তত ৪৫ দিন পরে আসুন। অথচ ২৮ নম্বর দিনে হঠাৎ করে ম্যাসেজ পাই আমার নাকি দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হয়ে গেছে। এবার প্রশ্ন হচ্ছে সরকারিভাবে যেহেতু আমার দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হয়ে গেছে, আমি যখন ৪৫ দিন পড়ে সত্যি সত্যিই দ্বিতীয় ডোজ নিতে হাসপাতালে যাবো, তারা কি আদৌ ভ্যাকসিন দেবেন?
কাছাড়ের ডিস্ট্রিক্ট ইমুনাইজেশন অফিসার সুমনা নাইডিং বলেন, “যাদের কাছে এমন মেসেজ গেছে এবং সার্টিফিকেট পেয়েছেন তাদের বলছি আপনারা সেই সার্টিফিকেট নিয়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যান, আপনাদের ভ্যাকসিন দেওয়া হবে। যারা প্রথম ডোজ নিয়েছেন, তাদের কাছে ভুলক্রমে দ্বিতীয় ডোজের মেসেজ চলে গেছে। তবে কিভাবে গেছে এবং কোথায় ভুল হয়েছে এগুলো আমরা খুঁজে দেখার চেষ্টা করছি। এটা শুধুমাত্র কাছাড় জেলায় হচ্ছে তা নয়, আমরা খবর পেয়েছি রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় এমন ঘটনা ঘটেছে। এত বড় প্রক্রিয়ায় ছোটখাটো ভুল হতেই পারে তবে আমরা সেটা শুধরে নিচ্ছি।”
নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরে ভ্যাকসিন সংগ্রহের মাত্রা আগের থেকে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিভিন্ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে অনেকেই লাইন দিচ্ছেন অথচ শেষমেষ ভ্যাকসিন মিলছে না।
গত পাঁচদিনে কাছাড় জেলায় করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির সংখ্যা পঞ্চাশ অতিক্রম করেছে, সম্প্রতি এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। যদি পরিস্থিতি গত বছরের মতো মোড় নেয় তাহলে স্বাস্থ্য বিভাগের কিছু কর্মীর অপরিপক্ক কার্যকলাপে সাধারণ মানুষের আবার হেনস্থা হবে।
Comments are closed.