
হোম কোয়ারেন্টাইনে গেলেন সাংসদ রাজদীপ রায়; "আতঙ্কিত নয়, সচেতন হোন", জনগণের উদ্দেশ্যে তার বার্তা
শহরের বিভিন্ন চিকিৎসকের সঙ্গে সম্প্রতি একটি বৈঠকে মিলিত হয়েছিলেন শিলচরের সাংসদ রাজদীপ রায়, সেখানে চিকিৎসক মনিকা দেবও উপস্থিত ছিলেন। সোমবার সকালে মনিকা দেবের পজিটিভ হওয়ার খবর আসার পর রাজদীপ রায় সহ তার সুরক্ষাকর্মী এবং জীবনজ্যোতি হাসপাতালে কর্মরত প্রত্যেক ব্যক্তির সওয়াব স্যাম্পল সংগ্রহের প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হয়েছে। প্রত্যেককেই হোম কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হবে। রাজদীপ রায় নিজে থেকে এগিয়ে এসে সোয়াব স্যাম্পল দিয়েছেন এবং সেল্ফ আইসোলেশন (হোম কোয়ারেন্টাইন)-য়ে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
তিনি জানিয়েছেন, তার পরিবারের কোনও সদস্য এর আওতায় আসেননি, কারণ তারা আগে থেকেই দূরত্ব বজায় রেখেছিলেন। তবে তার সুরক্ষাকর্মী এবং সঙ্গে থাকা কয়েকজন লোক স্যাম্পল দিয়েছেন। মেহেরপুরের জীবনজ্যোতি হাসপাতালে কর্মরত প্রত্যেক ব্যক্তির বুধবার স্যাম্পল সংগ্রহ প্রক্রিয়া শুরু হবে।
তিনি বলেন, এই দুঃসময়ে আমাদের আতঙ্কিত হলে চলবে না, তবে প্রত্যেক ব্যক্তিকে সচেতন হতেই হবে। গত শুক্রবার চিকিৎসকরা একটি বিশেষ বৈঠকে অংশ নিয়েছিলাম। যদিও কেউ কারও সংস্পর্শে আসেননি, সামাজিক দূরত্ব বজায় ছিল এবং মাস্ক-সেনিটাইজার ইত্যাদিও আমরা ব্যবহার করেছি। তবু যেহেতু আক্রান্ত চিকিৎসক মনিকা দেব বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, তাই সাবধানতা বজায় রাখার উদ্দেশ্যে আমি নিজেই আইসোলেশনে যাচ্ছি।
আমার পরিবারের কেউ এর আওতায় পড়ছেন না, কারণ তারা আগে থেকেই দূরত্ব বজায় রেখে চলছিলেন। জনপ্রতিনিধি হওয়ার দরুন আমাকে প্রথম থেকেই বিভিন্ন প্রয়োজনীয় বৈঠকে যোগ দিতে হয়েছে এছাড়া জেলার প্রত্যেক এলাকায় পৌঁছে সাধারণ মানুষের সমস্যা গুলো দেখতে হয়েছে। এজন্যই আমার পরিবারের সদস্যরা আগে থেকে বাড়িতেই নিজেদের সুরক্ষিত এবং নিরাপদ জায়গায় আলাদা করে নিয়েছিলেন। তাদের এই সচেতনতার জন্যই আজ আমার ভয় হচ্ছে না।
এছাড়া এই সূত্রে জেলা বিজেপির কোনও সদস্য সন্দেহজনক তালিকায় আসছেন না। কারণ, চিকিৎসক মনিকা দেবের সঙ্গে যেদিন দেখা হয়েছিল এরপরে আমি কোন দলীয় বৈঠকে যোগ দেইনি বা দলের কোনো সদস্যের সঙ্গে সরাসরি দেখা হয়নি।
স্বাস্থ্য বিভাগের সূত্র অনুযায়ী, আমরা গোষ্ঠী সংক্রমনের প্রথম পর্যায়ে ঢুকে পড়েছি, এটা পরিষ্কার। শুধুমাত্র শিলচর শহর নয়, সারা রাজ্যেই পরিস্থিতি প্রায় এক। ফলে এখন আমাদের প্রত্যেককে আরও বেশি সাবধান হতে হবে। এখন পরিস্থিতি এমন, যে আমাদের ছোট থেকে ছোট ভুল বড় ধরনের বিপদ ডেকে আনতে পারে। চিকিৎসক মনিকা দেবের কোভিড পজিটিভ হওয়ার পর তার সংস্পর্শে আসা প্রত্যেক রোগীর পরীক্ষা হবে এটাই এখন নিয়ম। আমরা জীবন জ্যোতি হাসপাতালে কাজ করা প্রত্যেক ব্যক্তির স্বাস্থ্য পরীক্ষা করিয়ে প্রয়োজনে তাদের হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখার ব্যবস্থা করব।
Comments are closed.