Also read in

লক্ষ্মীপুর এসডিপিওর বিরুদ্ধে মারপিট-হেনস্থার অভিযোগ জুনিয়র ডাক্তারের, "তদন্ত হবে" বললেন এসপি

লক্ষ্মীপুর বিধানসভার সমষ্টির অধীনে পয়লাপুল চৌমাথা এলাকায় শনিবার রাতে পুলিশের হাতে নিগৃহীত হয়েছেন এক জুনিয়র ডাক্তার। তিনি নিজেই সেটা টুইটারে তুলে ধরেছেন এবং সঙ্গে আপলোড করেছেন তার ক্ষতস্থানের ফটো। তার অভিযোগ এসডিপিও পার্থপ্রতিম দাস তাকে শারীরিক এবং মানসিকভাবে নিগ্রহ করেছেন, এতে তিনি বিধ্বস্ত। রবিবার পুলিশ সুপারের দ্বারস্থ হয়ে নিজের অভিযোগ তুলে ধরেছেন তিনি। পুলিশ সুপার ঘটনার তদন্ত হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন।

গত বছর তেজপুর মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করেন ইনদাদুল হুসেন মজুমদার। বর্তমানে খারুপেটিয়ায় সরকারী চিকিৎসক হিসেবে নিযুক্ত। তার ভাষ্য অনুযায়ী, শনিবার বাড়ি ফিরছিলেন এবং সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা নাগাদ পয়লাপুল চৌমাথা এলাকায় তাকে আটক করেন একদল পুলিশ। তিনি বলেন, আমি একজন ডাক্তার এবং বাড়ি ফেরার জন্য অনুমতি নিয়ে এসেছি। এতে পুলিশের এক আধিকারিক তাকে তুই-তোকারি ভাষায় গালাগাল দিতে শুরু করেন এবং তার বাহিনীর লোকেদের বলেন, একে গ্রেফতার কর।

জুনিয়র ডাক্তার বারবার ক্ষমা চাইছিলেন এবং তাকে যেতে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করছিলেন। কিন্তু পুলিশের আধিকারিক তাতে পাত্তাই দেননি বরং বিভিন্ন নিয়ম দেখিয়ে তাকে জেলে পুরে দেওয়ার কথা বলেন। জুনিয়র ডাক্তার পরিস্থিতি খারাপ দেখে পুলিশকে বলেন, তার কাছে জেলাশাসকের অনুমতি রয়েছে তাহলে কেন এমন ব্যবহার করা হচ্ছে? এতে পুলিশের আধিকারিকরা হঠাৎ করেই লাঠি নিয়ে তাকে এবং তার গাড়ির ড্রাইভারকে মারতে শুরু করেন। কিছুক্ষণ মারপিট করার পর কলার ধরে টেনে-হেঁচড়ে স্থানীয় থানায় নিয়ে যান। সেখানে আবার তাকে শারীরিক এবং মানসিকভাবে হেনস্থা করা হয়। অনেক হাতজোড় করার পর শেষমেষ থাকে ছেড়ে দেন পুলিশের আধিকারিকরা। তবে ঘটনায় মানসিকভাবে বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছেন করোনা পরিস্থিতিতে রোগীদের সেবা করা চিকিৎসকটি।

তবে এসডিপিও পার্থপ্রতিম দাস বলেন, “আমরা নিজেদের দায়িত্ব পালন করছিলাম, এখন কারফিউ চলছে এবং কোন ব্যক্তির চলাফেরার অনুমতি নেই। আমরা যখন দেখলাম একটি প্রাইভেট গাড়ি তিনজন মানুষকে নিয়ে আসছে আমাদের আধিকারিকরা বাধা দেন। প্রথমে তারা গাড়ি থামাতে চাননি, বারবার বলা সত্ত্বেও গাড়ির লাইট অফ করেন নি ড্রাইভার। এরপর তারা পুলিশের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। চিকিৎসকটি বলেন, আমি একজন ডাক্তার, আমাকে আটকানোর সাহস কিভাবে হয় আপনাদের? তার কাছে কোনো কাগজপত্র ছিল না। অন্তত ডাক্তার হিসেবে একটা আইডেন্টিটি কার্ড থাকবে, সেটাও দেখাননি যুবকটি। তবুও আমরা তাদের আটক করে রাখিনি এবং বাড়ি যেতে দিয়েছি। এবার তারা ঘটনাকে অন্যভাবে জনসমক্ষে তুলে ধরতে চাইছেন।”

চিকিৎসকটি টুইটারে একটি ক্ষত দেখিয়ে ফটো আপলোড করেছেন। এই বিষয়ে পার্থপ্রতিম দাস বলেন, “আমাদের বাহিনীর কেউ তাদের উপর হাত তোলে নি, এই ক্ষত হওয়ার পেছনে পুলিশের কোনও যোগসূত্র থাকতে পারেনা।”

চিকিৎসক এদিন পুলিশ সুপার বৈভব চন্দ্রকান্ত নিম্ললকরের সঙ্গে দেখা করে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন। এই বিষয়ে পুলিশ সুপারকে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, “আমার কাছে একই ঘটনার দুটো চিত্র রয়েছে, চিকিৎসক যেটা বলছে এবং আমাদের পুলিশের আধিকারিক যে বিবরণ তুলে ধরেছেন, তার মধ্যে তফাৎ রয়েছে। আমরা দুই পক্ষের বিবরণ শোনার পর নিরপেক্ষ তদন্ত করব এবং যে দোষ করেছে তার বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

Comments are closed.

error: Content is protected !!