Also read in

Star sportsman of his time, Silchar's Bharat Hazam is no more

‌২৩ জানুয়ারি : না ফেরার দেশে পাড়ি দিলেন শিলচরের প্রাক্তন খেলোয়াড় ভরত হাজাম। রবিবার সকাল সাড়ে দশটায় তারাপুর এম এম রোড স্থিত নিজস্ব বাসভবনে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮২। রেখে গেছেন তিন পুত্র, দুই কন্যা, জামাতা, নাতি-নাতনি সহ অসংখ্য গুণমুগ্ধ।

গত কয়েক মাস থেকেই অসুস্থ ছিলেন তিনি। একাধিকবার তার মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয়। তার আগে আক্রান্ত হয়েছিলেন কোভিডেও। মহামারি ভাইরাসের সঙ্গে লড়াই করে সেরে উঠলেও দেখা দিয়েছিল নানা সমস্যা। বুকে সংক্রমণ ধরা পড়েছিল। যার ফলে বেশ ক’দিন থাকতে হয়েছিল স্থানীয় এক নার্সিংহোমে। তারপরও কিন্তু লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিলেন অতীতের এই দিকপাল খেলোয়াড়। সবার আশা ছিল লড়াকু মানসিকতার ভরত হাজাম এই লড়াইয়ে জয়ী হবেন। ‌তবে রবিবার সকালে তার সেই লড়াই শেষ হয়ে যায়। সেইসঙ্গে স্তব্ধ হয়ে যায় বরাকের ক্রীড়াঙ্গন।

বয়সের ভারে শরীরে জাঁকিয়ে বসেছিল বিভিন্ন রোগ। এরপরও লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিলেন প্রাক্তন তারকা খেলোয়াড়। একজন খেলোয়াড় হিসেবে যেমন তিনি অন্যদের জন্য উদাহরণ ছিলেন, ঠিক তেমনি জীবন যুদ্ধেও এক দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন।
গতবছর পুজোর আগে প্রয়াত ভরত হাজামের স্ট্রোক হয়েছিল। এর ফলে হাসপাতালেও ভর্তি হতে হয়েছিল তাকে। স্বাস্থ্যের কিছুটা উন্নতি হওয়ার পর তারাপুরের বাড়িতে নিয়ে আসা হয়েছিল। তবে লক্ষ্মী পুজোর দিন ফের মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয়। তড়িঘড়ি তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল স্থানীয় একটি হাসপাতালে। কন্ডিশন সিরিয়াস থাকায় ভর্তি করা হয়েছিল আইসিইউতে। কয়েকদিন ছিলেন সেখানে। এরপর আস্তে আস্তে তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়। সেবার লড়াই জয় করে ফিরে আসেন বাড়িতে। তবে দু-দুটি স্ট্রোক এর ধকলে শারীর অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়েছিল। এরপর থেকেই বাড়িতে চলছিল তার চিকিৎসা।
ভরত হাজাম ছিলেন একজন ভার্সাটাইল খেলোয়াড়। ক্রিকেট ও ফুটবল দুটোতেই তিনি জেলা দলের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন। ক্রিকেটার হিসেবে ১৯৬৬ সালে খেলেন স্কুল টুর্নামেন্ট। আন্তঃজেলা ক্রিকেটে শুধু শিলচরের নয়, করিমগঞ্জ এবং ধুবড়ির হয়েও প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন। শিলচর ও করিমগঞ্জ দলের হয় ১৯৬৮ থেকে ১৯৭১ এবং ১৯৭৬ থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত আন্তঃজেলা ক্রিকেট খেলেছেন। ধুবড়ির হয়ে খেলেছেন ১৯৮৩ থেকে ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত। ডানহাতি ওপেনার ছিলেন তিনি।

ফুটবলার হিসেবে ১৯৫৫ সালে ক্লাব ফুটবলে অংশগ্রহণ করেন। ১৯৬৩ সালে যোগ দেন পি ডব্লিউ ডি তে। তার আগে খেলেন টাউন ক্লাবে। ১৯৬৪ সালে চাকরি পান ফায়ার সার্ভিসে। এরপর ট্রেনিংয়ের জন্য নাগপুর ও মুম্বাই যেতে হয়েছিল তাকে। ১৯৬৬ সালে অসমে ফিরেন। পোস্টিং হয় যোরহাটে। সেখানেই লিগ খেলেন। ফুটবলার হিসেবে খেলেছেন অসম ফায়ার সার্ভিস দলেও। একবার রাজ্য দলেও ডাক পেয়েছিলেন। একজন ফুটবলার হিসেবে আরো অনেক এগিয়ে যেতে পারতেন ভরত হাজাম। তবে হাঁটুর চোটের জন্য সময়ের আগেই তাকে ফুটবল ছাড়তে হয়। খেলাধুলা ছিল তার প্রথম পছন্দ। ‌ কারো সঙ্গে দেখা হলেই উঠে আসতো খেলাধুলার প্রসঙ্গ। ‌ জাতীয় দলের খবর বলুন অথবা লোকাল কোনো ক্লাব বা সংগঠনের, সব খবরই তিনি রাখতেন। এমন একজনের মৃত্যু গোটা ক্রীড়াঙ্গনের জন্যই বিরাট ক্ষতি।

অতীতের এই দিকপাল খেলোয়াড়ের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছে বিভিন্ন ক্লাব সংগঠন। ‌এদিন প্রয়াত ভরত হাজামকে শেষ শ্রদ্ধা জানিয়েছে শিলচর জেলা ক্রীড়া সংস্থা, তারাপুর এসি, টাউন ক্লাব, বরাক উপত্যকা ক্রীড়া সাংবাদিক সংস্থা এবং ভেটেরন ক্রিকেটার্স ক্লাব। প্রাক্তন খেলোয়াড়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে নিজেদের পতাকা অর্ধনমিত রেখেছে শিলচর জেলা ক্রীড়া সংস্থা। শোক জানিয়েছেন শিলচরের বিধায়ক দ্বীপায়ন চক্রবর্তী ও। ‌ তিনি প্রাক্তন খেলোয়ার এর মৃত্যুর খবর পেয়ে ছুটে যান শশান ঘাটে।

Comments are closed.

error: Content is protected !!